সোমবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১১ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আমার রাজশাহী
১৪

আড়ানি স্টেশনে রেলের টিকেট নিয়ে পুকুরচুরি 

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘা

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত টিকিটের মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিদিন টিকিটপ্রতি বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে স্টেশনের সংশ্লিষ্টরা। বুকিং মাস্টারদের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের একই অভিযোগ উঠেছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি এসএসসি পরীক্ষার খাতা বুকিং করতে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। ২৫ কেজি ওজনের খাতার বস্তা প্রতি ১০০’শ টাকা নিয়ে রশিদ দেওয়া হয়েছে ৩০ টাকার। এমন তথ্য মিলেছে, আড়ানি স্টেশনে বুকিং করতে যাওয়া সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে ও বুকিং দেওয়া রশিদ যাচাই করে। (যার রশিদ নম্বর২৩৮০৯৬)। ঠিক একইভাবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে অন্যদের কাছ থেকেও। অতিরিক্ত মূল্য রাখার কারণ জানতে গিয়ে অশালীন কথা ও গালমন্দ নিয়ে বাকবিতন্ডতা হলেও আজ পর্যন্ত এই অনিয়মটির কোন সুরাহা হয়নি। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১লা ফেব্রয়ারী আন্তঃনগর ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা যাওয়ার জন্য ৩০ জানুয়ারি অগ্রিম টিকিট কিনতে আড়ানি স্টেশনে যান হারুন অর রশিদ নামের এক যাত্রী । প্রথমে তাকে টিকিট নেই বলে জানানো হয়। পরে অতিরিক্ত ৬০ টাকা দিয়ে টিকিট কেনেন বলে জানান তিনি। যার সিরিয়াল নং ২০১৯৫৮( আসন ছ/৮৭)।

৬ জানুয়ারী ঢাকা যাওয়ার জন্য অগ্রিম টিকিট কিনতে আড়ানী ষ্টেশনে যান চারঘাট উপজেলার পুঠিমারি এলাকার হাসান আলী। তিনি জানান, নির্ধারিত টিকিটের মূল্যে ৩৪০ টাকার পরিবর্তে  টিকিট প্রতি অতিরিক্ত ৪০ টাকা দিয়ে দুটি টিকিট কিনেছেন।

এমন অভিযোগের কথা জানিয়ে আড়ানী পৌর এলাকার আসমত জানান, আড়ানি স্টেশন থেকে ট্রেনের টিকিট পাওয়া যেন সোনার হরিণ পাওয়ার মতো। কাউন্টারে অগ্রিম টিকিট কিনতে গেলে তখন টিকিট পাওয়া যায়না। কিন্তু প্রতি টিকিটে টাকা বেশি দিলে টিকিট পাওয়া যায়।

নাম গোপন রাখার শর্তে একজন বলেন, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে  টাকা বেশি দিলে যে কোনো সময় টিকিট পাওয়া যাবে। 

বিশেষ করে রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ধুমকেতু এক্সেেপ্রস ট্রেনটির টিকেট কালো বাজার ছাড়া কোনভাবেই পাওয়া যায় না। টিকিটের সংকট দেখিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে প্রতি টিকিটে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। সুযোগ বুঝে আবার এর চেয়ে  বেশিও নেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ৯ দিন আগে টিকিট ছাড়া হয় কাউন্টারে। কিন্তু টিকিট ছাড়ার ৪/৫ ঘণ্টার মধ্যে সব টিকিটই নামে বেনামে বিক্রি হয়ে যায়। পরে প্রতি টিকিটে  টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয় যাত্রীদের। এ কারণে ভোগান্তিতে রয়েছেন এ অঞ্চলের সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা। অনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে আড়ানি রেলওয়ের স্টেশন মাষ্টার, বুকিং মাষ্টার  থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায়ের কর্মচারী।

জানা গেছে, এলাকাবাসির দাবির প্রেক্ষিতে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির নির্বাচনী ইসতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গত ১বছর আগে আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর ধুমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামে। এই স্টেশনে  টিকিট বরাদ্দ আছে ৫টি।  বাঘাসহ পার্শ্ববর্তী দুই উপজেলার অধিকাংশ লোক ঢাকায় যাওয়ার জন্য আড়ানি স্টেশন ব্যবহার করেন। যার কারণে টিকিটের অনেক চাহিদা রয়েছে এই স্টেশনে। বরাদ্দকৃত টিকিট দিয়ে চাহিদার দশ ভাগের এক ভাগও পূরণ করা সম্ভব হয় না। তার পরেও টিকিট নিয়ে চলছে পুকুরচুরি। 

আড়ানী পৌরসভার মেয়র মুক্তার বলেন, এসব কারণে হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির স্বিকার হয় ট্রেন ভ্রমণকারী সাধারণ যাত্রীগণ। অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেলওয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষে সু-দৃষ্টি দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

আড়ানী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাষ্টার একরামুল হক (বড় মাষ্টার) দাবি করেছেন, অতিরিক্ত কোন টাকা নেননা। কোনো টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হয় না। তবে বুকিং বিষয়ে লেবারের খরচসহ ১০০ টাকা নেওয়ার কথা স্বিকার করেছেন তিনি। 

রেলওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুর রহমান বলেন, নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে বেশি টাকা নেয়া হয় বলে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়। লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা আছে। এছাড়াও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হবে বলে জানান তিনি।

স/এমএমআই

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর