• শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭

  • || ০৬ শাওয়াল ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৭৬

চলে গেলেন দেশের ক্রিকেটের শুরুর সেনানী

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২০  

তিনি ছিলেন সেই সময়ের কান্ডারি। দেশের ক্রিকেটের তখন শিশু অবস্থা। রেজা-ই-করিম সে সময় প্রায় এক হাতে চালিয়েছেন দেশের ক্রিকেট। বিদ্যুৎহীন বোর্ড অফিসে বসে মোমবাতির আলোয় কাজ চালিয়েছেন, আর্থিক দুরবস্থা মেটাতে ধরনা দিয়েছেন সরকারের কাছে, ধন্যাঢ্য ব্যক্তিদের কাছে।

দেশের ক্রিকেটের শুরুর দিনগুলোর অন্যতম বাতিঘর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রথম কার্যনির্বাহী সম্পাদক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই-করিম ইন্তেকাল করেছেন। আজ ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

এক সময় ক্রিকেট খেলেছেন। পাকিস্তান আমলে ঈগলেটস দলের খেলোয়াড় থাকা অবস্থাতেই তাঁর সংগঠক হিসেবে কাজে জড়িয়ে পড়া। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটকে প্রায় ‘শূন্য’ থেকে যাঁরা শুরু করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন রেজা-ই-করিম। তিনি যে সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কার্যনির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন, তখন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের একটি কক্ষে ছিল ক্রিকেটের কার্যালয়। আসবাবপত্র হিসেবে ছিল একটি করে টেবিল-চেয়ার আর একটি স্টিলের আলমারি। সেখানেই রাখা হতো দেশের ক্রিকেটের সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের আইসিসির সহযোগী সদস্যপদ পাওয়ার পেছনেও তাঁর অবদান আছে। ১৯৭৭ সালে বিখ্যাত মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) বাংলাদেশ সফর করে। সেটিই ছিল কোনো বিদেশি ক্রিকেট দলের প্রথম বাংলাদেশ সফর। এমসিসিকে যে আমন্ত্রণপত্রটি পাঠানো হয়েছিল, সেটির খসড়াও করেছিলেন রেজা-ই-করিম। দেশের মাটিতে এমসিসির বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে আম্পায়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

সংগঠক-আম্পায়ারিং ছাড়াও রেজা-ই-করিম আশির দশকে জাতীয় ক্রিকেট দলের নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নীতিমান এ সংগঠক ১৯৮৬ সালে আইসিসি ট্রফিগামী বাংলাদেশ দল নির্বাচন নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতদ্বৈততায় পদত্যাগও করেছিলেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বহুদিন ধরেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন দেশের ক্রিকেটের দুঃসময়ের অন্যতম এই সংগঠক। দুটি কিডনিরই কার্যক্ষমতা বেশির ভাগই হারিয়েছিলেন। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণেও আক্রান্ত হয়েছিলেন একবার। গত কয়েকটা বছর তাঁর কেটেছে হাসপাতালে যাওয়া-আসার মধ্যেই। সঙ্গে ছিল শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ। ক্যানসারেও আক্রান্ত ছিলেন। সিঙ্গাপুরে মণিপুরী পাড়ার বাসায় তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলি কেটেছে ওষুধ আর চিকিৎসকের সান্নিধ্যেই।

রেজা-ই-করিম রেখে গেছেন স্ত্রী ও এক সন্তান। তাঁর ছেলে নাজমুল করিম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ‘বাবা কয়েক দিন ধরেই একটু বেশি অসুস্থ ছিলেন। আজ ফজরের সময় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।’

নাজমুল জানিয়েছেন, আজ ফার্মগেটের বাইতুশ শরফ জামে মসজিদে বাদ জোহর রেজা-ই-করিমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে।

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
খেলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর