সোমবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৪ ১৪২৬   ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আমার রাজশাহী

চারঘাটে সড়কে অবৈধ ট্রলি- ট্রাক্টরের অবাধ বিচরন 

আবুল কালাম আজাদ (সনি)

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

রাজশাহীর চারঘাটে ইট, বালু, মাটি বহন কারী অবৈধ ট্রলি ও ট্রাক্টরের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। এদের বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারনে প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। ফলে অকালেই ঝরে যাচ্ছে তরতাজা প্রাণ। কাউকে আবার সারাজীবনের মতো বরণ করতে হচ্ছে পঙ্গুত্ব। এছাড়া এগুলোর বিকট শব্দের কারনে ঘটছে শব্দদূষণও। ফলে পথচারীসহ জন সাধারণকে সার্বক্ষনিক আতংকের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে।

জানা যায়,উচ্চ মাত্রার শব্দে ট্রলি চলাচলের কারনে অতিমাত্রায় শব্দ দূষণ হয়। যে কারনে সরকার ২০১০ সালে সারাদেশে সব ধরনের ট্রলি চলাচল অবৈধ ঘোষনা করে। এছাড়া ট্রলি আটক করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ও নিদের্শ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। কিন্তু সরকারের এই নিদের্শনাকে মানছেনা কেউই। সরকারি আইনেরও কার্যত কোনো বাস্তবায়ন নেই।

একাধিক প্রয়োজনীয়তা ও আধুনিক প্রযুক্তিতে কৃষি জমি চাষাবাদের জন্য কৃষকের কাছে ট্রাক্টর খুবই জনপ্রিয়। দেশের কৃষি উন্নয়নে তথা চাষাবাদের কাজে ব্যবহার করার জন্যই সরকার বিদেশ থেকে ট্রাক্টর আমদানী করার অনুমতি দেয়। সরকারি এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির আমদানীকারকরা অবাধে আমদানী করে ট্রাক্টর।

আমদানিকারকরা এসব ট্রাক্টর বিক্রি করে ইটভাটার মালিক, কাঠ ব্যবসায়ি সহ সাধারণ পরিবহন ব্যবসায়িদের কাছে। ট্রাক্টর ও এর ড্রাইভারের জন্য কোনো লাইসেন্সের প্রয়োজন না হওয়ায় সহজেই এসব পরিবহন কিনে আনে ব্যবসায়িরা। তারা এসব ট্রাক্টর কিনে কৃষি কাজের পরিবর্তে ব্যবহার করছে পরিবহন কাজে। ফলে উপজেলায় ট্রাক্টরের সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে তার ব্যাপক প্রভাব বিস্তার রয়েছে।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, চাষাবাদের জন্য আমদানীকৃত এই ট্রাক্টর অবৈধ ট্রলি-নছিমনসহ নানা পরিবহনে রুপান্তরিত হয়ে মানুষের সর্বনাশ করছে। আবাদি জমি ছেড়ে দাবড়ে বেড়াচ্ছে পৌরশহরসহ উপজেলার গ্রামীন জনপদে কিংবা বাজার কেন্দ্রিক সড়কগুলোতে। ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় শিশু কিংবা কিশোররাও অদক্ষভাবে এসব ট্রাক্টর অবাধে চালাবার সুযোগ পাচ্ছে, ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা।

উপজেলায় প্রতিদিন ১হাজারের ও বেশী ট্রলি,ট্রাক্টর, নসিমন বিভিন্ন ধরনের মালামাল নিয়ে অবাধে চলাচল করছে। এসব যান দিয়ে সাধারণত হালচাষ ও নিয়ম মোতাবেক কৃষি জমিতে চাষাবাদের কাজে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশ মোটরযান আইনে পাকা রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের তালিকায় এর কোনো অস্তিত্ব নেই।

ট্রাক্টর মালিক ফজলুল হক ও আবু তালেব বলেন, অনেকেই ট্রাক্টর দিয়ে ইট, মাটি,বালু আনা নেওয়ার কাজ করে।সেজন্য আমরাও করি।এটা অবৈধ কিছু না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, সড়কে ট্রাক্টরের চলাচল কিংবা পূর্ণ সামগ্রী বহনের অনুমতি নেই। মূলত এগুলো কৃষি কাজে ব্যবহার করা উচিত। খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এন/কে

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর