সোমবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৫ ১৪২৬   ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আমার রাজশাহী
১৭১

ট্যাকা কবরে লইয়া যামু

এম এম জামান

প্রকাশিত: ৪ জুন ২০১৯  

এম এম জামান।

এম এম জামান।

এসএসসি পরীক্ষার পরে প্রথমবারের মত ঢাকা আসি। লঞ্চের ইয়ে ধইরা না, কেবিনে চইড়া।

ঢাকা আসা উপলক্ষে একটা গেঞ্জি (এখন যেটাকে টিসার্ট বলে) এবং একজোড়া স্যান্ডেল কিনছিলাম, তাড়াহুড়া কিংবা উত্তেজনায় সম্ভবত, গেঞ্জিটা দুই সাইজ বড় আর স্যান্ডেলটা এক সাইজ ছোট হইছিলো।

এক আত্মীয় (মেড ইন বিক্রমপুর) যাদুঘর দেখাইতে নিয়া যাইবে। গুলিস্তান টু শাহবাগ। উনি রিক্সা ঠিক করতেছেন।

- শাহবাগ কত?

- ১৫ টাকা।

- ১০ টাকায় যাইবা?

- একদাম ১২।

এরকম জনাদশেকের সাথে দরদাম কন্তু বনিবনা হইলো না।

হাটা শুরু করলাম।

পল্টন মোড়।

আবারও একদাম ১২। আমাদের একদাম ১০।

আবারো হাটা। প্রেসক্লাব। 
ভাড়া একদাম ১২। আমরাও ওই ১০।
আচ্ছা এক টাকা কম দিয়েন। ১১। আমরা দশেই।

আবার হাটা ।
মত্স্য ভবনের উল্টাদিকে।
- ভাড়া কত?
- ১২ টাকা।
- ১০ টাকায় যাইবেন?
- ওঠেন।

আমার আত্মীয় বিজয়ীর বেশে সুধাইলেন, বলছিলাম না গুলিস্তান থেকে শাহবাগের ভাড়া ১০ টাকার উপ্রে না।

এক সাইজ ছোট নতুন স্যান্ডেল পইরা হাঁটতে হাটতে দুই পায়ে চারটা ফোসকা পরছিলো। 
মনে মনে তওবা পড়ছিলাম, এই নিষ্ঠুর শহরে আর আসুম না।

ঢাকা শহরের একজন বাড়ীওয়ালার কথা শুনছি (দেখি নাই) বাড়ির সমুদয় মানুষের প্রাকৃতিক কর্ম সম্পন্ন হইলে উনি একবার কমোডে ফ্লাস করতেন।

পানির অপচয় উনি সহ্য করতে পারতেন না কারন অপচয়কারী নাকি শয়তানের ভাই।

আমার এক বন্ধু আছে নোয়াখাইল্লা। হ্যাতে সকাল বেলা প্যাট ভরি ভাত খাইয়া বাইর হয়, সারাদিন নানান ধান্ধাফিকির কইরা সন্ধ্যায় বাসায় গিয়া আবার ভাত খায়। 
বাইরের খাবার খাইলে হ্যাতের নাকি সমেস্যা হয়।

কিন্ত আপনি খাওয়াইতে চাইলে হেতের আলকাতরা খাইতেও আপত্তি নাই। মাগনা পাইলে হেতে বুড়িগঙ্গার পানিও খাইতে পারে কয়েক বালতি। পেটে কোনো সমেস্যাই হয়না।

জিগাইছিলাম, সারাদিন না খাইয়া থাকেন, ক্ষিদা লাগে না? কয়, পানি পুনি ছ্যাপ ছোপ খাইয়া কাটাইয়া দেই।

ক্যাম্পাসের এক বরিশাইল্লা বড় ভাই আছেন। উনি আমার দেখা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রমিনেন্ট বেকার।

রাতে তিনি কোথায় থাকেন সে রহস্য এখনও অনুতঘাটিত।

তবে প্রতিদিন সকাল বেলা হাকিম চত্বরে আসেন। বড়ভাই, ছোট ভাই কিংবা বন্ধু সিঙ্গারা চা খায়,ওনাকেও সবাই ভালোবাইসাই খাওয়ায়,এখানেই এবং এভাবেই ওনার ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার।

কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়।

ইউনিভার্সিটির পানি সুপেয় হিসেবে সুপরিচিত, সিংগারা খাইয়া সবাই টেপের পানি খায়। 
উনি মিনারেল ওয়াটার ছাড়া খায় না। সিগারেট শেয়ার করতে চাইলে মাইন্ড করে। 
হোস্ট হয়তো গোল্ডলিফ খায় উনি
আস্ত বেনসন। বরিশাইল্লা তো, কইলজা বড় (ফুটানি)।

আমার এক বন্ধু গেছেন সিটি কর্পোরেশন এর পাঁচতলা মানের গনসৌচাগারে। বড় কাজ ৪ টাকা, ছোটটা ২ টাকা।

কাজ সাইরা বের হইয়া ক্যাশিয়ার কে ২ টাকা দিছিলেন।
- আরো ২ টাকা দেন।

- ছোট কাজ করছি তো!

- না, আপনে বড়টা করছেন।

- আপনে কেমনে দেখলেন? ভিতরে সিসি ক্যামেরা আছে নাকি?

- আমি শব্দ পাইছি।

- ছোট কাজেও আমার অনেক সময় শব্দ বের হয়।

- দশ বছর ধইরা হাগামুতার ব্যবসা করতেছি, আপনে আমারে শব্দ চিনাইতে আইছেন!

এই নিয়া মোটামুটি বাহাস! মানুষ জড়ো হইয়া গেছিলো।

তৃতীয় একজনের হস্তক্ষেপে ৩ টাকায় দফারফা হইছিলো।

ঈদের শুভেচ্ছা।

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর