শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২১ ১৪২৬   ১০ শা'বান ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৩৪

তানোরে মাটিতে ফুল বিছিয়ে শহীদ মিনার, অতঃপর শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক, তানোর

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা তাঁদের। তবে ধারে-কাছে কোনো শহীদ মিনার নেই। কিন্তু মহান একুশের বিশেষ দিনে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা তো জানাতেই হবে। অগত্যা মাটিতে ফুল বিছিয়ে শহীদ মিনার গড়লেন তাঁরা। জানালেন বিনম্র শ্রদ্ধা।

পাঠ্যবই থেকে মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস জেনে শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভাষা শহীদদের প্রতি এভাবেই গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে রাজশাহীর তানোর উপজেলার আজিজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা। বিদ্যালয়ে স্থায়ী কোনও শহীদ মিনার না থাকায় ফুল বিছিয়ে তৈরি অস্থায়ী শহীদ মিনারে তারা এভাবেই প্রতি বছর শ্রদ্ধা নিবেদন করে। ভাষা আন্দোলনের প্রতি অদম্য আবেগ ও ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর ভালোবাসার প্রমাণ রাখেন এভাবে।

সকালে দেখা যায়, মাটিতে নকশা করে ফুল বিছিয়ে তৈরি করা হয়েছে তিনটি মিনার। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বেশ কয়েকজন অভিভাবক দাঁড়ালেন তাঁদের গড়া শহীদ মিনারের সামনে। এরপর তাঁরা একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শেষে তাঁরা নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন কিছুক্ষণ। শ্রদ্ধা জানানো শেষে সকলে যে যার মতো চলে যান।

বিদ্যালয়টির ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিবেদককে বলেন, দূরের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হয়না। তাই তাঁরা নিজ উদ্যেগেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাটিতেই একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করার কথা ভাবেন।

তাঁরা বলেন, ‘এ ভাবনা থেকে আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে মাটিতে ফুল বিছিয়ে একটি শহীদ মিনার তৈরি করি। আমরা নিজেরাই এসব কাজ ভাগাভাগি করে করেছি।’

তাঁরা আরও বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের চার কিলোমিটারের মধ্যে কোন শহীদ মিনার নেই। তাই ছোট হলেও এখানে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলে আমরা খুব সহজে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পারতাম।’ 

আজিজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘২১ ফেব্রুয়ারি আসলে শহীদ মিনার না থাকার কারণে আমরা দিনটি ঠিকভাবে পালন করতে পারি না। একাধিকবার জনপ্রতিনিধিরা শহীদ মিনার তৈরির আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি শহীদ মিনার আবেদন করেন।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল্লা অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। আশা করছি অচিরেই সেইসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার তৈরি করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুশান্ত কুমার মাহাতো প্রতিবেদককে বলেন, তানোর উপজেলার যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ নিয়ে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না বলেন, দ্রুত খোঁজ-খবর নিয়ে বিদ্যালয়টিতে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেয়া হবে।

স/এমএমআই

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর