• মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৩ ১৪২৬

  • || ১৩ শা'বান ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৬০

তারেকের ‘স্বৈরাচারী হস্তক্ষেপ’, অচিরেই ভাঙছে ২০ দলীয় জোট!

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ১৫ মার্চ ২০২০  

 ‘ভাঙা তরী ছেঁড়া পাল, চলবে আর কত কাল’পরিস্থিতিতে রয়েছে বিএনপি নিয়ন্ত্রিত ২০ দলীয় জোট। তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বৈরাচারী আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জোট ত্যাগের। বিএনপির কাছে নিজেদের প্রাধান্য না থাকায় ২০ দলের অবহেলিত নেতারা বাধ্য হয়েই এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, লন্ডনস্থ তারেক রহমানের একের পর এক স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটে দেখা দিয়েছে বিভক্তি ও কোন্দল। বিভক্তির মাত্রা এতোটাই বেশি যে, ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা জোট ত্যাগের কথা ভাবছেন। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি বিএনপির কোন জোরালো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। অথচ রাজপথের কর্মসূচিহীন দলটিকে ঘিরেই ২০ দলীয় জোটের পথচলা। এমতাবস্থায় নেতিয়ে পড়া বিএনপিকে নিয়ে তারা কোন আশার আলো দেখছে না। উপরন্তু ২০ দলীয় জোট আক্রান্ত হয়েছে তারেক ভাইরাসে। তার একক সিদ্ধান্তের বলি হয়ে তারা নানাভাবে বঞ্চিত হয়েছেন। এমনকি তার সঙ্গে যোগাযোগের পথও রুদ্ধ করে রেখেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ২০ দলীয় জোট বারবার তারেকের দ্বারস্থ হওয়ার উদ্যোগ নিলেও তাদের কাছে ঘেঁষতে দেয়নি বিএনপির এই দুই শীর্ষ নেতা।

২০ দলীয় জোটের একটি বৃহৎ অংশ বলছে, তাদের জোট সমন্বয়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ হওয়ায় জোট নিয়ে তেমন মাথা ঘামান না। উল্টো দেখান নানা অজুহাত। আবার জোটের পক্ষ থেকে যখন কোন উদ্যোগ নিয়ে তার দ্বারস্থ হওয়া হয়, তিনি আশ্বস্ত করেন তা পূরণের। কিন্তু সেই আশ্বাস আর পূরণ হয় না। এ চিত্র একদিনের নয়। অথচ বিষয়টির কোন সুরাহা তারা করতে পারছে না। কারণ জোটের এমন কোন প্রতিনিধি নেই, যিনি সরাসরি তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপ করতে পারেন। উল্টো রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা ও জবাবদিহিতা। যেগুলোর কোন সমাধানই হচ্ছে না। আর ভবিষ্যতে হবে না বলেও তাদের বিশ্বাস। আসবে না লন্ডনের বিপরীতে দেশ থেকে কোন যোগ্য নেতৃত্ব। যে নেতৃত্বের ওপর ভর করে পথচলা যায়। এ কারণে এখন সিদ্ধান্ত একটাই, জোট ত্যাগ। এটি অচিরেই করবে ২০ দলের অন্তর্গত দলগুলো। সে মতো অগ্রসরও হচ্ছে তারা।

এ বিষয়ে বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা বলছেন, ২০ দলীয় জোটের এমন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না। পাশাপাশি এমন কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি, যা থেকে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন। কারণ ২০ দলীয় জোট বিএনপিরই অঙ্গ। পরিবার বললেও ভুল হবেনা। তাই ছোট-খাটো ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। তাই বলে ২০ দলীয় জোটে নতুন করে ভাঙন সৃষ্টি হবে, সেটি মানতে নারাজ বিএনপির নীতি-নির্ধারক মহল।

দেশের রাজনৈতিক বিশিষ্টজনরা বলছেন, দেরীতে হলেও বিএনপি নিয়ন্ত্রিত ২০ দলীয় জোটের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। এজন্য তাদের সাধুবাদ। কারণ বিএনপি যুদ্ধাপরাধ সমর্থন করা একটি স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল। যাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে, সেবকের পরিচয়ে সীমাহীন লুটপাট ও দুর্নীতিতে লিপ্ত হওয়া। যার প্রমাণ ইতোমধ্যে দেশবাসী পেয়েছেন। বিএনপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে ২০ দল ছেড়ে যারা আসতে চাইছেন তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলেও মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর