• শনিবার   ৩০ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭

  • || ০৭ শাওয়াল ১৪৪১

আমার রাজশাহী
১০১

ত্রাণের চাল বিতরণে অনিয়ম পবার হুজরীপাড়া ইউনিয়নে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২০  

রাজশাহী পবা উপজেলার ২নং হুজুরীপাড়া ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণের চাল বিতরণে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুস্থ হতদরিদ্র প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল প্রদানের কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ৮-৯ কেজি করে। এছাড়া অতিরিক্ত কিছু চাল থাকার পরেও এক বৃদ্ধা নারীকে না দিয়ে তার ইউনিয়ন পরিষদে রেখে দেন। পরে ওই রেখে দেয়া চালের কোন হুদিস পাওয়া যায়নি। গত শনিবার ২নং হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করা সরকারি ত্রাণ নিয়ে এমনই অভিযোগ তুলেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, নভেল করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় গৃহবন্দী হত দরিদ্র এবং অসহায় মানুষের ত্রান সামগ্রী প্রদান করছে সরকার। আরো এগিয়ে আসছে সমাজের হৃদয়বান লোকজন ও বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা। তবে ইতিপূর্বে সরকারি ত্রাণসামগ্রী সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বিতরণের দাবী উঠে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সরকারি নির্দেশনায় ২নং হুজুরীপাড়া ইউনিয়নে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ত্রানের চাল বিতরন কার্যক্রম উদ্বোধন করে দিয়ে চালে যান সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন। সরকারি নির্দেশনায় ২নং হুজুরীপাড়া ইউনিয়নে হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে ত্রাণের চাল প্রদান কথা বলা হয়েছে। তারমধ্যে পরিষদের পক্ষ থেকে ইউনিয়নের প্রতি ওয়ার্ড থেকে ১৩০-১৪০ হতদরিদ্র পরিবারের তালিকা করা হয়।

কিন্তু প্রতি ওয়ার্ড থেকে ৪ থেকে ৫ টি পরিবারকে ত্রানের চাল দেয়া হয়েছে। বাকি পরিবারের জন্য বরাদ্দ কৃত চাল আত্মসাত করেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যনের নির্দেশে ইউপি সচিব ও মেম্বারা। পরে দেখা যায় কাউকে না জানিয়ে চাল গুলি চেয়ারম্যান, সচিব ও মেম্বারদের যোগসাজশে গোপনে চালগুলো ওয়ার্ড মেম্বারদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে আত্মসাত করা হয়। পরে এসব চাল বিতরনের ছয়নয় হিসাব দেখানো হয়েছে খাতা কলমে।

সরকার চাল দিয়েছে গরিব মানুষকে  দিতে। কিন্তুু হুজুরিপাড়া ইউপিতে এসব ত্রানের চাল বিতরণে ইউপি চেয়ারম্যন ও ইউপি সদস্যরা স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম করেছে। প্রতিটি পরিবার কে ১০ কেজি চাল দেয়ার কথা। দিয়েছে ৮-৯ কেজি চাল। বাঁকি চাল কোথায়? এমনই প্রশ্ন এলাকাবাসীর । এ নিয়ে ভুক্তভোগী একাধিক ত্রাণ গ্রহীতারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পবা উপজেলার ২নং হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার এ ০১৭৩৩-১৫৭২৭৪ মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেনি তিনি।

এ ব্যাপারে আরএমপি কর্ণহার থানার ওসি তুহিন জানান, চাল বিতরনের সময় এক দুস্থ বৃদ্ধা মহিলা গিয়ে ছিলেন ত্রানের চাল নেয়ার জন্য। ওই সময় চেয়ারম্যন সাহেব ত্রানের চাল না দিয়ে তারিয়ে দিচ্ছিলেন। বিষটি দেখে খারাপ লাগে আমার। ওই সময় চেয়ারম্যান কে ওই বৃদ্ধা কে ত্রান দেয়ার জন্য রিকুয়েস্ট করেছিলাম। পর্যাপ্ত পরিমান ত্রান থাকার পরেও কেন দিলেন না চেয়ারম্যন সাহেব জানি না।

তিনি আরো জানান, পরে আমি নিজে টাকা দিয়ে ওই বৃদ্ধার চালসহ যা খাদ্য সামগ্রী দরকার শুনে দোকান থেকে কিনে বৃদ্ধাকে তার বাসায় পৌছে দিতে বলি। দেন। চাল বিতরনে অনিয়ম হয়েছে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

স/সা

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
রাজশাহী বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর