রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২১ ১৪২৬   ১১ শা'বান ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৩১

প্রধানমন্ত্রীকে মেয়র লিটনের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২৯৩১ দশমিক ৬২ কোটি টাকার রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এটি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে একক সর্ববৃহৎ প্রকল্প। মেগা এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজশাহীর সামগ্রিক উন্নয়ন হবে, বদলে যাবে পুরো নগরীর চিত্র।

মঙ্গলবার একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন প্রদান করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নগরবাসীর পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন।

২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর ২য় মেয়াদে মেয়রের দায়িত্বগ্রহণের পর রাজশাহীকে সাজাতে মেগা এই প্রকল্প তৈরিতে হাত দেন সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। রাজশাহী নগরীর সকল উন্নয়ন চাহিদাকে একত্রিত করে তৈরি করা হয় এ প্রকল্পটি। অবশেষে মেয়র লিটনের নিরসল পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার পর আজ প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি অনুমোদন দেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঢেলে সাজানো হবে রাজশাহীকে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মেয়র লিটনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে।

২৯৩১ দশমিক ৬২ কোটি টাকার রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে যে উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়িত হবে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ভৌত অবকাঠামোসমূহের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে রাজশাহীকে বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা এবং নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রণীত প্রকল্পটির আওতায় ৫০১.৭৮ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ/উন্নয়ন, সকল রাস্তায় পানি নিষ্কাশনে ৩৫৬.১৮ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ, ক্রমবর্ধমান নগরায়নের প্রেক্ষাপটে বর্ধিত যানবাহন চলাচল বিবেচনায় মহানগরীর তালাইমারী মোড় হতে কাঁটাখালী মোড় নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল হতে ভদ্রা মোড় এবং বিলসিমলা মোড় হতে সিটি হাট পর্যন্ত ১৩.০৯ কিলোমিটার সড়ক ৪ লেন সড়কে উন্নীতকরণ, মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ৪১.৯২ কিলোমিটার ফুটপাত ও ৬২.০৭ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ, মহানগরীর ১৯টি সরকারি খাস প্রাকৃতিক জলাশয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন করে বিনোদন পার্কের আদলে নির্মাণ, মহানগরীতে ১৫টি আধুনিক গণশৌচাগার নির্মাণ, ৪৩টি কবরস্থানের অবকাঠামো উন্নয়ন, ৪টি বিনোদন পার্কের উন্নয়ন এবং সিটি বাইপাস মোড় ও ভদ্রা স্মৃতি অম্ল্যান-এ সৌন্দর্য্যবর্ধক কাঠামো নির্মাণ করা হবে। ৪টি ওয়ার্ড কার্যালয়, তেরখাদিয়ায় শেখ কামাল সিটি কনভেনশন হল, ধর্মসভার অবশিষ্টাংশ এবং ৪টি কাঁচা বাজার নির্মাণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ্যানেক্স ভবন ১০তলায় সম্প্রসারণ, ৫০ স্কুলে বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতি এবং ভাষা শহীদ মিনার নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ ৮টি রেলক্রসিং-এ ফ্লাইওভার নির্মাণ, সিটি গ্যারেজ সম্প্রসারণ, জনসাধারণের নিরাপদ পারাপারের জন্য ১০টি ফুটওভার ব্রীজ, ৩০টি যাত্রী ছাউনি ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে ল্যান্ডস্কেপিং কাজ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত আছে। সর্বশেষ প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক সড়ক যন্ত্রপাতি, এ্যাম্বুলেন্স, ২টি লাশ পরিবহন ভ্যান এবং শিশু পার্কের জন্য ১৬ সেট গেমস ক্রয় করা হবে। এছাড়া ব্রীজ নির্মাণ, সড়ক আলোকায়ন, যানবাহন ক্রয় ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, আমরা প্রায় নয় মাস ধরে নগরীর উন্নয়নের জন্য বৃহৎ এই প্রকল্পটি নিয়ে কাজ করেছি। আজ প্রকল্পটি পাশ হয়েছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে আমরা। আমাদের সন্তানদের জন্য আগামীর বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে মাননীয় মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন কাজ করে যাচ্ছেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মেয়রের স্বপ্নের আধুনিক, উন্নত, বাসযোগ্য নগরীর গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

এ ব্যাপারে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, রাজশাহীর উন্নয়নে মেগা প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ  হাসিনা। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।  মেয়র আরো বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজশাহী নগরীর সামগ্রিক উন্নয়ন হবে। আরো বাসযোগ্য, আধুনিক, উন্নত শহরে পরিণত হবে রাজশাহী।

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর