সোমবার   ৩০ মার্চ ২০২০   চৈত্র ১৬ ১৪২৬   ০৫ শা'বান ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৪৯৫

বিপিএলে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে এগিয়ে কারা?

প্রকাশিত: ৪ জানুয়ারি ২০১৯  

আগামীকাল থেকে মিরপুরে শুরু হবে দেশের সব থেকে বড় ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ৬ষ্ঠ আসর (বিপিএল-২০১৯)। ইতিমধ্যে নিজেদের প্রস্তুতি পর্ব শেষ করেছে অংশগ্রহণকারী ৭টি দল। শিরোপা জয়ের আশায় এখন তারা নিজেদের সবটুকু নিয়ে লড়তে নামবে বাইশ গজের ময়দানে।

টি-২০’র মতো শর্ট ফরম্যাটে জয় পেতে হলে শুধু তারকা ক্রিকেটারদের উপর নির্ভর করে থাকাটা কোনভাবেই দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারে না। এখানে জিততে হলে দরকার সঠিক সিদ্ধান্ত ও একটা সামঞ্জস্য পূর্ণ দল। ফ্রাঞ্চাইজিগুলো দল গড়ার সময় সাধারণত এই বিষয়গুলো মাথায় রাখে না। অনেকে অর্থাভাব বা নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণেও এই বিষয়গুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে বাধ্য হয়। তবে এবারের বিপিএলে মোটামুটি সবগুলো ফ্রাঞ্চাইজি নিজেদের আয়ত্ত্বের মধ্যে থেকে সর্বোৎকৃষ্ট দল গড়ার চেষ্টা করেছে। শক্তিশালী দল গড়ার ব্যাপারে কে কী কৌশল নিয়েছে তা পর্যালোচনা করা যাক:

রংপুর রাইডার্স: শুরুটা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুরকে দিয়েই হোক। বিপিএলে ছয়টি আসরে ৫ বার অংশ নিয়েছে রংপুর। রংপুরের নেতৃত্বে থাকবে খোদ টাইগারদের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

রংপুর বেশি জোর দিয়েছে টপ অর্ডার আর পেস আক্রমণের দিকে। তাই টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আছে ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্স, অ্যালেক্স হেলস। এছাড়াও থাকবে মেহেদী মারুফ, মোহাম্মদ মিঠুন, রাইলি রুশো, নাদিফ চৌধুরী, ফারদীন হাসানের মত তরুণেরা। অলরাউন্ডার হিসেবে রবি বোপারা, ফরহাদ রেজা, বেনি হাওয়েল, শন উইলিয়ামসকে বেছে নিয়েছে রংপুর।

তবে রংপুরের ফাস্ট বোলিং বেশ শক্তিশালী। মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে এই বিভাগে খেলবেন শেলডন কটরেল, ওশান থমাসেরা। সাথে থাকবেন শফিউল ইসলাম ও আবুল হাসান। স্পিনার নির্ভরতা কম থাকলেও এই বিভাগটাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে রাইডার্স কর্তৃপক্ষ। স্পিন আক্রমণে আছেন নাজমুল ইসলাম অপু, নাহিদুল ইসলাম ও সোহাগ গাজী।

ঢাকা ডায়নামাইটস: প্রতিবারের মতো এবারও অন্যতম শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামবে ঢাকা। তিনবারের চ্যাম্পিয়ন আর বর্তমান রানার্সআপ ঢাকার লাগাম থাকবে জাতীয় টি-২০ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের হাতে।

যেখানে অধিনায়ক নিজেই অলরাউন্ডার সেখানে দলের শক্ত ভীত যে অলরাউন্ড হবে তা খুবই স্বাভাবিক। সাকিব আল হাসান ছাড়া এখানে খেলছেন কাইরন পোলার্ড, রোভম্যান পাওয়েল, আন্দ্রে রাসেল ও শুভাগত হোম।

ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আছেন ইয়ান বেল, হজরতউল্লাহ জাজাই, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ নাইম, নুরুল হাসান সোহান, রনি তালুকদার। অ্যান্ড্রু বার্চ, মোহর শেখ, রুবেল হোসেন, কাজী অনিক, শাহাদাত হোসেনদের নিয়ে গড়া ফাস্ট বোলিং বিভাগ নিয়ে কিছুটা সন্দেহের অবকাশ থাকতে পারে। তবে স্পিন বিভাগে থাকছেন সুনীল নারিন ও আসিফ হাসান যা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস: চারবার বিপিএল খেলে একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা। টাইগারদের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালের নেতৃত্বে থাকা দলটি এবারে চমক দেখাতে পারে। এছাড়া কুমিল্লার বিশেষ আকর্ষণ অজিদের সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। দলে তার উপস্থিতিতেও খেলোয়াড়দের চাঙ্গা রাখবে।

টপ অর্ডার আর অলরাউন্ড দু’টোকেই সমান প্রাধান্য দিয়ে মাঠে নামবে ভিক্টোরিয়ানসরা। এখানে তামিম ইকবালকে সঙ্গ দেবে এনামুল হক, ইমরুল কায়েস, এভিন লুইস, মেহেদি হাসান, শামসুর রহমান। ফাস্ট বোলিং কিছুটা দুর্বল অবশ্য। আবু হায়দার, মোহাম্মদ শহীদ, ওয়াকার সালামখিল মাত্র এই তিনজনকে দলে ভিড়িয়েছে কুমিল্লা। আর স্পিনার হিসেবে আছেন লিয়াম ডসন, মোশাররফ হোসেন ও সনজিত সাহা।

তবে অলরাউন্ডারদের বিভাগটা বেজায় শক্তিশালী। হার্ড হিটার শহীদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক, থিসারা পেরেরা পাশাপাশি আছেন আমির ইয়ামিন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন ও জিয়াউর রহমান।

খুলনা টাইটানস: বিপিএলের চোকার্স বোধ হয় এদেরকেই বলা যেতে পারে। কেননা পাঁচবার অংশ নিয়ে তিনবার প্লে অফ খেলেছে খুলনা। আর প্রতিবারই তীরে এসে তরী ডুবেছে। চোকার্সদের নেতৃত্ব দেবে মাহমুদউল্লাহ।

খুলনার এবারের শক্তিশালী বিভাগ হলো বোলিং। ফাস্ট বোলিংয়ে আছে লাসিথ মালিঙ্গা, আলী খান, শরিফুল ইসলাম ও সুভাশিষ রায়। স্পিনারদের মধ্যে আছেন তাইজুল ইসলাম, ইয়াসির শাহ, তানভীর ইসলাম, জহীর খান। তাছাড়া অলরাউন্ডারদের মধ্যে মাহমুদউল্লাহ ব্যতীত আরও আছেন কার্লোস ব্রাফেট, আরিফুল হক ও ডেভিড ভিসে।

ব্যাটসম্যানদের মধ্যে থাকছেন পল স্টারলিং, ব্রেন্ডন টেলর, আল আমিন, জহুরুল ইসলাম, জুনায়েদ সিদ্দিক, ডেভিড মালান, নাজমুল হোসেন শান্ত ও মাহিদুল ইসলাম।

সিলেট সিক্সারস: এখন পর্যন্ত সিলেটের বড় সাফল্য একবার প্লে অফ খেলা। তবে এবার সাবেক অস্ট্রেলিয়া সহ-অধিনায়ক ওয়ার্নারের নেতৃত্বে সিলেট যে কোন অঘটন ঘটাতে পারে। সিলেট এবার নামছে টপ অর্ডার ও ফাস্ট বোলিং বিভাগ দু’টোকে শক্তিশালী করে। ডেভিড ওয়ার্নার ছাড়াও টপ অর্ডারে খেলবেন লিটন দাস, আন্দ্রে ফ্লেচার, নিকোলাস পুরান, সাব্বির রহমান, জাকের আলী, আফিফ হোসেন ও তৌহিদ হৃদয়।

ফাস্ট বোলিংয়ে আছেন আল আমিন হোসেন, প্যাট ব্রাউন, এবাদত হোসেন, গুলবাদিন নাইব, মেহেদী হাসান রানা, মোহাম্মদ ইরফান, সোহেল তানভীর, তাসকিন আহমেদের মতো বোলাররা। স্পিন আক্রমণ সাজাতেও যথেষ্ট দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছে সিলেট। দলে থাকছে ফ্যাবিয়ান অ্যালেন, ইমরান তাহির, সন্দীপ লামিচানে ও নাবিল সামাদ। অলরাউন্ডার বিভাগে আছেন অলক কাপালি, মোহাম্মদ নওয়াজ, নাসির হোসেন।

রাজশাহী কিংস: কিংসের সেরা সাফল্য একবার রানার্সআপ। এবারে কিংসদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন টাইগারদের উদীয়মান অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ।

রাজশাহীর এবারে বেশি নজর ছিল টপ অর্ডারের দিকে। তাই দলে ভিড়িয়েছে সৌম্য সরকার, লরি ইভানস, ক্রিস্টিয়ান ইয়ংকার, ফজলে মাহমুদ, মুমিনুল হক, মার্শাল আইয়ুব, জাকির হাসানের মতো ব্যাটসম্যান। অলরাউন্ডারদের মধ্যে আছেন আলাউদ্দীন বাবু, সেকুগে প্রসন্ন, মোহাম্মদ হাফিজ, রায়ান টেস ডেসকাট। পেস ও স্পিন আক্রমণ দুর্বলতা আছে রাজশাহীর। ফাস্ট বোলার হিসেবে দলে জায়গা পেয়ছেন কামরুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও ইসুরু উদানা। স্পিনারদের মধ্যে আছেন আরাফাত সানী ও কায়েস আহমেদ।

চিটাগং ভাইকিংস: রাজশাহীর মতো ভাইকিংসদেরও সেরা সাফল্য একবার রানার্সআপ। এখনও পর্যন্ত সবগুলো আসরেই চট্টগ্রাম অংশ নিয়েছে। এবারে শেষ মুহূর্তে চট্টগ্রামের লাগাম তুলে দেয়া হয় উইকেটরক্ষক ও সাবেক টেস্ট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের হাতে।

চট্টগ্রামের নজর ছিল টপ অর্ডার ও অলরাউন্ডার গোছানোর দিকে। টপ অর্ডারে থাকা মোহাম্মদ আশরাফুল এবার চমক দেখাতে পারেন। এছাড়াও আরও আছেন মোহাম্মদ শেহজাদ, নজীবুল্লাহ জাদরান, লুক রনকি, মোসাদ্দেক হোসেন, সাদমান ইসলাম ও ইয়াসির আলী।

অলরাউন্ডারদের তালিকায় আছেন ক্যামেরন ডেলপোর্ট, রবি ফ্রাইলিঙ্ক, সিকান্দার রাজা ও দাসুন শানাকা। পেস আক্রমণে থাকবেন আবু জায়েদ রাহী, রবিউল হক ও খালেদ আহমেদ। স্পিনারদের মধ্যে থাকবেন নিহাদুজ্জামান, নাঈম হাসান, সানজামুল ইসলামের মতো তরুণরা।

দেখা যাচ্ছে প্রতিটা ফ্রাঞ্চাইজিই নিজেদের সাধ্যের মধ্যে থেকে ভারসাম্যপূর্ণ দল তৈরি করেছে। মাঠে নিজেদের দুর্বলতা বা বিশেষত্বকে পুঁজি করে গড়েছে তারা। তবে এক্ষেত্রে ভেন্যুকেও প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এবারের আসর বসবে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম এই তিন ভেন্যুতে। বৈচিত্র্যপূর্ণ মাঠের কন্ডিশনের কারণে ম্যাচের ফলাফলেও তারতম্য আসতে পারে। তাই এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না এবারের আসরের শ্রেষ্ঠত্বের দৌড়ে কারা এগিয়ে আছে। তবে বিশেষ চোখ থাকবে রংপুর এবং ঢাকার দিকে।

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর