বৃহস্পতিবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৭ ১৪২৬   ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৪২

মেয়র ‍লিটনের প্রচেষ্টায় নতুন সাজে রাজশাহী চিড়িয়াখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২০  

রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিনোদন পিপাসু নারী-পুরুষ ও শিশুদের পদচারণায় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা চিড়িয়াখানা। ফলে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ের পাশাপাশি চিড়িয়াখানার আয়ও বেড়েছে কয়েক গুণ।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে,রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা বয়সী বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীতে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো উদ্যান ও চিড়িয়াখানা এলাকা। দুপুরের পর পরই অন্যতম এই বিনোদনকেন্দ্রটি দর্শনার্থীতে পূর্ণ হয়ে গেছে।   কিন্তু  চিড়িয়াখানায় আসা   দর্শনার্থীরা  কিছুটা হতাশ হলেও কোন খাঁচায় প্রাণী আছে আর কোনটিতে নেই তা নিয়ে ক্ষোভ নেই কারও মনেই। চিড়িয়াখানার প্রতিটি প্রাণীর খাঁচার সামনেই সমান ভিড় করছেন তারা।

এদিকে, ছোট্ট শিশুরা এক পা দু’পা হেঁটে বাবা-মায়ের হাত ধরে চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখছে। আর উদ্যানের সবুজ নির্মল পরিবেশে সবাই যেন প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ছোটরা বিভিন্ন রাইডস উপভোগ করছে। কেউ রঙিন রঙিন গাড়ি চালাচ্ছে, কেউ দোলনায় উঠছে কেউ আবার লোহার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে পিচ্ছিল পাতে বসে চোখের পলকেই সুড় সুড় করে নিচে নামছে। সে এক বাঁধভাঙা আনন্দ।

জানা গেছে, রাজশাহী সিটি কপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের প্রচেষ্টায় ও সদিচ্ছায় এই বিনোদন কেন্দ্রের ভেতর-বাহির পরিস্কার-পরিছন্নসহ সৌন্দর্য বর্ধন, প্রধান ফটকজুড়ে ডিজিটাল সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। এছাড়াও আনা হয়েছে ছোট বাচ্ছাদের জন্য বেশ কিছু রাইডস।

পাশাপাশি সব পশুপাখির খাঁচার প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ আকর্ষনীয় রং করণ, প্রাণী সংযোজন, তৃণভুজি প্রাণীর জন্য অতিরিক্ত ঘাস চাষ, প্রতিটি খাঁচার কাছে দুগন্ধ দূর করতে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করণ, প্রাণীর স্বাস্থ্য দেখভাল কার্যক্রম প্রতিনিয়তই অব্যাহত রেখেছেন কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও রাতে ব্যাপক আলোকস্বজ্জা করা হয়েছে অধিকাংশ ভাস্কর্যের  আশেপাশের  । পাশাপাশি কৃত্রিম  খালে র চর্তুথ দিকে বিভিন্ন  রঙের ঝলমলে  আলোকসজ্জা করায় সুন্দয্য বেড়ে গেছে বেশ কয়েকগুণ । 

অন্যদিকে বড়রা উদ্যানের কৃত্রিম খালের টলটলে পানিতে থাকা বোট নিয়ে ঘুরছেন। জলকেলিতে মেতে উঠছেন, কেউ আবার সবুজ বেষ্টনীতে ঘেরা বেঞ্চের ওপর বসে হাওয়া খাচ্ছেন। উদ্যানের এক প্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত হেঁটে সাবার অনন্দ উদযাপনের দৃশ্য উপভোগ করছেন কেউ কেউ।

রাজশাহীর বাঘা থেকে আসা জমির উদ্দিন বলেন, বিনোদন নেয়ার বয়স এখন আর নেই, তারপরও এসেছে। ভালোই লাগলো চিড়িয়াখানায় এসে। আগের চেয়ে অত্যন্ত ভালো হয়েছে এবং সবকিছুই গোছালো।

শিক্ষার্থী তাসনিয়া ইমাম মিজানুর রহমান, আশিক ইসলামসহ অনেকেই জানান, প্রাকৃতিক পরিবেশে গাছ-গাছালির নিবিড় ছায়া ঘেরা রংপুর চিড়িয়াখানা আসলেই অনেক সুন্দর। পরিবার-পরিজন কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে নৈসর্গিক পরিবেশে সারাদিন কাটানোর জন্যে এই বিনোদন কেন্দ্রের তুলনা হয় না। তবে যেসব প্রাণী এখনো একা রয়েছে তাদের জোড়া মেলানো সম্ভব হলে এই চিড়িয়াখানাটি হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র।

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর