সোমবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১১ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৪৯

যক্ষ্মা ঝুঁকিতে রাজশাহীর নারী যৌনকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০২০  

যৌনকর্মী ও তাদের মক্কেলরা যক্ষ্মা ছড়ানোর জন্য অন্যতম উৎস হলেও রাজশাহী শহরের বিপুল সংখ্যক নারী যৌনকর্মী যক্ষ্মা ছড়ানোর এই মারাত্মক বিষয়ের সাথে পরিচিত নন। তাদের প্রায় অর্ধেক জানেনই না যে, যক্ষ্মা সংক্রামক রোগ। ৯০ শতাংশ সুপ্ত যক্ষ্মা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন না। রাজশাহী শহরের নারী যৌন কর্মীদের উপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। গবেষকরা বলছেন, যক্ষ্মা ঝুঁকিতে রাজশাহী শহরের এসব নারী যৌনকর্মীরা।

এই গবেষণার মোট ২২৫ জন নারী যৌনকর্মীর ৪৩.১ শতাংশ শহর থেকে, ৩৪.৭ গ্রাম থেকে ২২.২ শতাংশ বস্তি এলাকা থেকে আসা। গবেষণা বলছে, যক্ষ্মার বিস্তার সম্পর্কে জানেন না ৭৬% শতাংশের বেশি নারী যৌনকর্মী। ৪১% এর বেশি অনুভব করেছেন যে টিবি একটি অসংক্রামক রোগ। অর্ধেক যক্ষ্মা ছড়ায় এ বিষয়টি জানলেও খুব বেশি গুরুত্ব দেন না। বিশ^বিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. গোলাম হোসেনের তত্ত্বাবধানে `Knowledge of tuberculosis among female sex workers in Rajshahi city, Bangladesh: a cross sectional study’ শিরোনামের এই গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল রাজশাহী নগরীতে নারী যৌনকর্মীদের যক্ষ্মা সম্পর্কিত জ্ঞানের মূল্যায়ন। বিএমসি জার্নালে প্রকাশিত এ গবেষণা সম্পন্ন করেছেন পাঁচ সদস্যের গবেষকদল।

গবেষকরা বলছেন, মূলত ২ ধরনের যৌনকর্মী আছেন। কেউ স্বামী বা পরিবারের নির্যাতনে এই পেশায় আসতে বাধ্য হয়েছেন এবং কেউ কেউ অতিরিক্ত অর্থ আয়ের জন্য যৌন কর্মের পথ বেছে নিয়েছেন। তাদের অধিকাংশই ধনিক শ্রেণীর। যক্ষ্মা সম্পর্কে তাদের জ্ঞান পরিমাপ করা হয়েছে ৬টি ভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে। পরে যক্ষ্মা সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞানের অভাব সংশ্লিষ্ট কারণগুলি খুঁজে বের করার জন্য ÔChi-square test’ I `multinomial logistic regression mode’  নামের দুইটি টেস্ট ব্যবহার করা হয়।

গবেষকরা দেখেছেন, শিক্ষা, মাসিক পারিবারিক আয়, বয়স, বৈবাহিক অবস্থা এবং যৌন ট্রেডিং স্থান যক্ষ্মার সম্পর্কিত জ্ঞানের সাথে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পৃক্ত। ৪২.২% শতাংশ কিছুটা যক্ষ্মা সম্পর্কে জানেন। তুলনামূলকভাবে শিক্ষিত জনেরা কম শিক্ষিত জনের চেয়ে যক্ষ্মা সম্পর্কে ধারণা বেশি রাখেন।

তবে যক্ষ্মা ঝুঁকি কেনো.? এমন প্রশ্নের উত্তরে গবেষক ড. গোলাম হোসাইন বলেন, এ শহরে কোনো বৈধ পতিতালয় নেই এ জন্য তারা রাস্তা, বিভিন্ন হোটেল বা বস্তি এলাকাতে বিভিন্ন স্থানে তাদের যৌনকর্ম সম্পাদন করেন। যার অধিকাংশ জায়গা যক্ষ্মার ঝুকি সম্পন্ন। এছাড়া নারী যৌন কর্মীদের কাছে যারা আসেন তারা দূরের ভ্রমণের পর একটা চাহিদা থেকে এটা করেন। অধিকাংশই বাস, রিকশা ড্রাইভার। যৌনকর্মীরা সচেতন না হওয়ার অসচেতনভাবেই এসব স্থান ও ব্যক্তিদের সাথে যৌনকর্ম সম্পাদনের কারণে যক্ষ্মার ঝুঁকি বেড়ে  যায়। সে কারণেই তাঁদের সচেতনতার প্রয়োজন ।

এ বিষয়ে রাবি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. নাজিব ওয়াদুদ বলেন, এইচআইভি সম্পর্কে একটু সচেতন হলেও সংক্রামক এই রোগটি সম্পর্কে যৌনকর্মীরা জানেন না এটা খুব মারাত্মক একটা বিষয়। যদিও তারা এবং তাদের ক্লায়েন্টরা যক্ষ্মা ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা এটি। 'সরকার-সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও এনজিওগুলো এবং গবেষকদের যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশে যক্ষ্মা রোগের প্রকোপ কমাতে সচেতনতা তৈরি ও জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।

এন/কে

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর