• সোমবার   ২৫ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭

  • || ০২ শাওয়াল ১৪৪১

আমার রাজশাহী
১৩১

রাজশাহীতে করোনা আক্রান্ত প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম করোনামুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ মে ২০২০  

রাজশাহীর বাগমারায় করোনাভাইরাসে প্রথম আক্রান্ত প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম (২৬) এখন করোনামুক্ত। তৃতীয় দফায় তাঁর নমুনা পরীক্ষা করে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের শরীরেও করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মেলেনি। আর কোনো রোগী শনাক্ত না হওয়ার কারণে আপাতত বাগমারা করোনামুক্ত।

হোম কোয়ারেন্টিন মেনে চলা ও নিয়মিত গরম পানি দিয়ে গড়গড়া করার সুফল পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন করোনাবিজয়ী এই তরুণ প্রকৌশলী। সে সঙ্গে মনোবলও শক্ত ছিল তাঁর। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নিজের করোনা পজেটিভ থেকে নেগেটিভে আসার বর্ণনা দেন তিনি। জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের যাত্রাগাছি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নারায়নগঞ্জের একটি পোশাক কারখানায় টেক্সাইল প্রকৌশলী হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

নারায়নগঞ্জ ফেরত টেক্সটাইল প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে গত ১৩ এপ্রিল জেলা সিভিল সার্জন এনামুল হক ঘোষণা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী হিসাবে ঘোষণা দেন। তিনি রাজশাহী জেলার দ্বিতীয় এবং বাগমারা উপজেলার প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ছিলেন। গত মঙ্গলবার তৃতীয় দফায় তাঁর নমুনা পরীক্ষায় নেগেটিভ হিসাবে প্রতিবেদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী বলেন, প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় গত ১৮ এপ্রিল তাঁর নমুনা নেওয়া হয়। এর আগে ১৪ এপ্রিল তাঁর সংস্পর্শে আসা পরিবারের অন্য সদস্যদের নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের প্রতিবেদনও নেগেটিভ আসে। এরপর জাহাঙ্গীরের নমুনার ফলাফলও নেগেটিভ আসে।

তৃতীয় দফা গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহীর ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। গত মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছায়। তাতেও প্রকৌশলীর ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। হোম কোয়ারেন্টিনেই থাকা প্রকৌশলী ও তাঁর পরিবারের কাছে দুপুরেই মুঠোফোনে খবরটি পৌঁছে।

করোনাকে জয়ী প্রকৌশলী বলেন, নিজের মনোবল সর্বদা শক্ত ছিল। করোনাকে জয় করতে পারবেন এমন আত্নবিশ্বাস ছিল। কখনো তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েননি। পরিবারের লোকজনদেরও তিনি সাহস যোগিয়েছেন।

কীভাবে তিনি সুস্থ হলেন এমন প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর সাংবাদিকদের জানান, গত ৬ এপ্রিল নারায়নগঞ্জ থেকে নানার বাড়িতে আসার পর থেকে স্বেচ্ছায় হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। এছাড়াও যখন নারায়নগঞ্জে ছিলেন তখনো তিনিও রুমমেটেরা কোয়ারেন্টিন মেনে চলেছেন। তবে বাড়িতে আসার পর জ্বর, কাশি ও হালকা শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। এসময় গত ১১ এপ্রিল তাঁরা বাড়িতে এসে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি নমুন সংগ্রহ করে নিয়ে যান।

তিনি বলেন, ওই সময়ে হালকা কাশি ছাড়া অন্যকোনো সমস্যা ছিল না। পজেটিভ রিপোর্ট আসার পরেও তিনি ভালো ছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ওষুধ সেবন করেছেন। এগুলো ছিল মূলত জ¦র, সর্দি, কাশি এবং এন্টিবায়েটিক।

তিনি বাড়িতে আসার পর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে পর্যাপ্ত পরিমানে গরম পানিতে লবন মিশিয়ে গারগিল করেছেন এবং হালকা গরম পানি পান করেছেন। ঘরে বসেই নিয়মিত চা পান করেছেন তিনি। হোম কোয়ারেন্টিন মেনে চলা এবং গরম লবন পানির গরগিলের সুফল পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর বলেন, সবারই সরকার নির্দেশিত নিয়ম মেনে ঘরে অবস্থান করা উচিত। তিনি নিজেকে করোনামুক্ত হওয়ার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স/র

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
রাজশাহী বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর