• সোমবার   ০১ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭

  • || ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৯০৯

রাজশাহীতে করোনা শনাক্তের পর এবার রাত জেগে পাহারায় পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২০  

গত শনিবার পর্যন্ত রাজশাহী সেবা করোনামুক্ত। কিন্তু সেটি আর স্থায়ী হয়নি। গত রোববার গতকাল সোমবার পরপর দুইদিন বাবাগমারা পুঠিয়া উপজেলায় করোনা শনাক্ত দুই রোগী পাওয়া যায়। এতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজশাহী জুড়ে। এরপর রাজশাহী রাস্তায় নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়।

সোমবার রাত আটটা। রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের দুই পাশে চারিদিকজুড়ে ঘনো অন্ধকার। যেন পিনপতন শব্দহীন রাজশাহী। তবে মাঝে-মধ্যে দু’একটি ট্রাক যাচ্ছে। আর মাঝে মাঝে সাইরেন বাজতে বাজতে ছুটে আসছে এ্যাম্বুলেন্স। কখনো কখনো দুই একটা মোটরসাইকেল দেখা মিলছে। তবে সবগুলো গাড়িকে দাঁড়াতে হচ্ছে বেলপুকুর রেলক্রসিংয়ের চেকপোষ্টে। এই চেকপোষ্টের দাঁড়িয়ে আছেন রাজশাহী মহানগর বেলপুকুর থানা পুলিশের ১০ থেকে ১২ জন সদস্য। তারা কড়া পাহারায় নজর রাখছেন সবগুলো গাড়িকে।

লকডাউনের মধ্যে রাজশাহীতে কেউ যেন বাইরে থেকে এসে প্রবেশ করছে কিনা এটি দেখার জন্য তারা দাঁড়িয়ে আছেন এখানে। এই পুলিশ চেকপোস্ট এর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো গাড়ি শহরের ভিতরে ঢুকতে পারছে না শহরে।

পরিচয় গোপন রেখে জানতে চাইলে রুহুল আমিন নামের এক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘কিছু মানুষ এখনো বিভিন্ন জায়গা থেকে চলে আসার চেষ্টা করছেন রাজশাহীতে। তারা কোন পরিস্থিতিতে আসছেন, সেটা আমরা জানি না। কাজেই বাইরে থেকে আসা কাউকেই শহরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তবে হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী মেডিক্যালে চিকিৎসা নিতে আসছেন বাইরের জেলা থেকে। তাদের যেতে দেওয়া হচ্ছে।’

সেখান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে হলো কাপাশিয়া বাজার। এই বাজারে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে নিজেই রাস্তায় লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছেন নগরীর কাটাখালি থানার ওসি জিল্লুর রহমান। চেকপোস্টের সামনে গাড়ি আসার আগেই দূর থেকে ইশারা করে জানানো হচ্ছে গাড়ি থামাতে। এরপর কেনো শহরে গাড়িটি ঢুকবে, তার যথাযথ কারণ জেনেই কেবল অনুমতি দেওয়া হচ্ছে শহরের দিকে যাওয়ার।

জানতে চাইলে ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, রাজশাহী এখনো করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অনেক ভালো অবস্থানে আছে। এই অবস্থায় যেন আমরা থাকতে পারি, সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এখন বাইরে থেকে কাউকে শহরে প্রবশে করতে দেওয়া যাবে না। এই নির্দেশনায় আমাদের দেওয়া হয়েছে প্রশাসন থেকে। আমরা সেটিই করার চেষ্টা করছি। ফলে রাজশাহীর প্রবেশপথগুলো প্রায় লক করে দেওয়া হয়েছে।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, কৃষিপণ্য, খাবার গাড়ি এবং জরুরী প্রয়োজনী কাজে ছাড়া কাউকে শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আর এটি করতে গিয়ে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের কেবল মেটোপলিটন এলাকাতেই বসানো হয়েছে ৭-৮টি চেকপোস্ট। রাত-দিন এসব চেকপোস্টে তল্লাশি করে শহরে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ফলে সহজে চাইলেই কেউ শহরে প্রবেশ করতে পারছেন না। এমনকি জেলা শহরের বাসিন্দাদেরও শহরে বাড়ি না হলে প্রবশে করতে দেওয়া হচ্ছে না।’

কাপাশিয়া চেকপোস্ট থেকে সামনে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কাটাখালি পৌরসভার কাছে রয়েছে আরেকটি চেকপোস্ট। এখানেও যানবাহন থামিয়ে চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করার পরেই শহরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। সদুত্তোর দিতে না পারলে ফেরত পাঠানো হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। এভাবে রাজশাহী-নওগাঁ, রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কেও রাত-দিন চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শেষেই কেবল যানবাহন প্রবেশ করছে রাজশাহী শহরে।

এদিকে গত রোববার গতকাল সোমবার পরপর দুইদিন বাবাগমারা পুঠিয়া উপজেলায় করোনা শনাক্ত দুই রোগী পাওয়া যায়। এতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজশাহী জুড়ে। এরপর রাজশাহী রাস্তায় নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়।

এদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ভাইরাস নিয়ে চিকিৎসা কমিটির প্রধান আজিজুল হক আজাদ গতকাল সাংবাদিকদের জানান, মানুষকে ঘরে থাকতে হবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া এই মহামারি রোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে।

স/র

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
নগর জুড়ে বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর