সোমবার   ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১১ ১৪২৬   ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আমার রাজশাহী
২৭

রাজশাহীতে কেউ মানছে না তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন 

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

রাজশাহী শহরের ৮৬% সরকারি অফিসে সরকারের ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০০৫ (সংশোধিত আইন-২০১৩)’ লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এছাড়া ৮০% শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫১% স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এবং ৭৪% রেস্টুরেন্টে দেদারছে লঙ্ঘিত হচ্ছে এই আইন।

বৃহস্পতিবার সকালে উন্নয়ন সংস্থা ‘এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডি’র সম্মেলন কক্ষে ‘রাজশাহী শহরের পাবলিক প্লেসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা’ শীর্ষক এক জরিপের ফলাফল উপস্থাপনের জন্য সংবাদ সম্মেলন অনুুষ্ঠিত হয়। সেই সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ এই চার পাবলিক প্লেসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের ভয়াবহ এ চিত্র তুলে ধরা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছর (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রি.)‘এসিডি’র তত্ত্বাবধানে এবং ‘ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিড্স-সিটিএফকে’র সহযোগিতায় ‘রাজশাহী শহরের পাবলিক প্লেসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা’ যাচাইয়ের জন্য ‘ক্রস সেকশনাল’ পদ্ধতিতে একটি বেসলাইন জরিপ পরিচালিত হয়। রাজশাহী শহরের মোট ৭০২টি পাবলিক প্লেসে (১৫৪টি সরকারি অফিস, ১০৫টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, ১২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ৩১৬টি রেস্টুরেন্টে) পরিচালিত হয় এই জরিপ। 

‘এসিডি’র নির্বাহী পরিচালক সালীমা সারোয়ারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্থানীয় দৈনিক ‘সোনার দেশ’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন, ‘রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন’র সভাপতি কাজী শাহেদ ও ‘এন্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স-আত্মা’র রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক শরীফ সুমন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই গবেষণার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন এসিডির তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোস্তফা কামাল। এসময় পাওয়ার পয়েন্টে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করে বিস্তারিত তুলে ধরেন, ‘এসিডি’র এডভোকেসি অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম শামীম। 

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, ৭৭% সরকারি অফিসে ধূমপানের নিদর্শন পাওয়া গেছে, ৪৭% অফিসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী সতর্কতামূলক নোটিশ পাওয়া যায়নি এবং ৪৯% সরকারি অফিসে পানের পিক দেখা গেছে। সরাসরি ধূমপান হচ্ছে ১৮% অফিসে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ভবনের ভেতরে ধূমপানের নিদর্শন ও ১০% কেন্দ্রে ভবনের বাহিরে কিন্তু সীমানার মধ্যে ধূমপান, ২৩%-তে আইন অনুযায়ী সতর্কতামূলক নোটিশ পাওয়া যায়নি এবং ২৬% সেবাকেন্দ্রে পানের পিক দেখা গেছে। সামগ্রিকভাবে ধূমপান হয়েছে ৩৪% সেবাকেন্দ্রে, ৪%-তে সরাসরি ধূমপান, ২৮%-তে সিগারেট/বিড়ির বাট এবং ১১% সেবাকেন্দ্রে সিগারেটের গন্ধ পাওয়া গেছে। ৯৪% কেন্দ্রে আইন অনুযায়ী সতর্কতামূলক নোটিশ পাওয়া যায়নি। ৪৭% শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধূমপানের নিদর্শন, পানের পিক দেখা গেছে ২৯% প্রতিষ্ঠানে। ৪% প্রতিষ্ঠানে সরাসরি ধূমপান, ৪৩% প্রতিষ্ঠানে সিগারেট/বিড়ির বাট পাওয়া গেছে।

৬০% প্রতিষ্ঠানে আইন অনুযায়ী সতর্কতামূলক নোটিশ পাওয়া যায়নি। এমনকি ৪৯% প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের সতর্কতামূলক নোটিশই নেই। এছাড়া ৭৮% শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমানা থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়কেন্দ্র পাওয়া গেছে।  

এছাড়া জরিপে দেখানো হয়, ৪৮% রেস্টুরেন্টে ধূমপানের নিদর্শন এবং ৩৯% রেস্টুরেন্টে পানের পিক দেখা গেছে। সরাসরি ধূমপান করতে দেখা গেছে ২৫% রেস্টুরেন্টে, ৪৩% এ সিগারেট/বিড়ির বাট এবং ১১% এ ধূমপানের গন্ধ পাওয়া গেছে। ৬৯% রেস্টুরেন্টে আইন অনুযায়ী সতর্কতামূলক নোটিশ পাওয়া যায়নি। এমনকি ৫৯% রেস্টুরেন্টে কোন ধরনের সতর্কতামূলক নোটিশই নেই। ৭% রেস্টুরেন্টে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও ১০% রেস্টুরেন্ট এর ভেতরে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় করতে দেখা গেছে। জরিপকৃত ৬৯টি বা ২১.৮% রেস্টুরেন্টের ট্রেডলাইসেন্স নেই এবং জরিপের আওতায় ৩১৬টি রেস্টুরেন্টের মধ্যে ২০২টি অর্থাত ৬৩.৯% রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির সদস্য নয় বলে জরিপে উঠে এসেছে। 

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর