রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২২ ১৪২৬   ১১ শা'বান ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৩৪

রাজশাহীতে ৯৭৮ প্রবাসীর হদিস নেই, কোয়ারেন্টিনে মাত্র ৩৪৪ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২০  

গত প্রায় তিন সপ্তাহে রাজশাহী এসেছেন ১ হাজার ৩৪৪ জন প্রবাসী। এসব প্রবাসীদের মধ্যে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন মাত্র ৩৬৬ জন। বিদেশ ফেরত ৯৭৮ জনই নেই হোম কোয়ারেন্টিনে। তদের হদিসও পাওয়া যাচ্ছ না।
তারা কোথায় কিভাবে থাকছেন বা চলাফেরা করেছেন এ নিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে প্রশাসন। 

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডাঃ এনামুল হক বলেন, গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৩৬৬ জন হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা হয়। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিানে রয়েছেন ২৯৯ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় ১৩৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিানে নেয়া হয়। বর্তমানে যারা কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন তাদের বাড়ি চিহ্নিত করে দেয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৪ দিন মেয়াদ শেষ করায় ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৬৭ জনকে।

তিনি আরো জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী ১ মার্চ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত বিদেশফেরত রাজশাহীতে এসেছেন ১ হাজার ৩০৮ জন। অন্য ৩৬ জন এসেছেন ১৬ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত। বিদেশ ফেরত যারা কোয়ারেন্টিনে ছিলেন না তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোন দেশ থেকে কবে এসেছেন এবং শারীরিক অবস্থা দেখে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি জানান, সোমবার পুঠিয়ায় এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে খুজে বের করে তাকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। গত ১৯ মার্চ তিনি ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফিরে তিনি হোম কোয়ারেন্টিনে না থেকে নিয়মিত অফিস করছিলেন। এর আগে গত রোববার রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়। তিনি দুই সপ্তাহ কানাডা থেকে গত ১১ মার্চ দেশে ফিরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও অফিস করেন।

রাজশাহী সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, বর্তমানে যারা হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন এর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২৩ জন, বাঘা উপজেলায় ২৬ জন, চারঘাটে ১৩ জন, পুঠিয়ায় ৪৮ জন, দুর্গাপুরে ১২ জন, বাগমারায় ২১ জন, মোহনপুরে ৮ জন, তানোরে ২৪ জন, পবায় ১৬ জন ও গোদাগাড়ীতে ৮ জন।

সূত্রমতে, গত ২৪ ঘন্টায় রাজশাহীতে যে ১৩৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে এদের মধ্যে ভারত থেকে এসেছেন ৮৩ জন, অস্ট্রেলিয়া থেকে ১জন, মালেশিয়া থেকে ৪জন, আমেরিকার থেকে ১জন, ইতালীর ২জন, চীন থেকে ১৪ জন, সিঙ্গাপুর থেকে তিনজন, সৌদি আরব থেকে ১৬ জন, হংকং থেকে দুইজন, ইংল্যান্ড থেকে একজন, জাপান থেকে একজন, শ্রীলঙ্কা থেকে দুইজন, কাতার থেকে তিনজন, সাইপ্রাস থেকে একজন ও মরিসাস থেকে একজন।

গত ২৪ ঘন্টায় কোয়ারেন্টিনে যাওয়াদের মধ্যে রাজশাহী নগরের রয়েছেন ৮৯ জন, বাঘা উপজেলায় ১৪ জন, পুঠিয়ায় চারজন, মোহনপুরে চারজন, তানোরে আটজন, পবায় আটজন, গোদাগাড়ীতে আটজন।

এদিকে রাজশাহী বিভাগে এপর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় এসেছেন ৪ হাজার ৪৯৫ জন। এরমধ্যে ছাড় পেয়েছেন ৪০৫ জন।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য জানান, বিভাগে প্রবাসীর আসার সংখ্যা কোয়ারেন্টিনে থাকা লোকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। তাদের সবাইকে আনা সম্ভব হয়নি। কেবল যাদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে তাদেরকেই আনা হয়েছে। 

ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য আরো বলেন, এই মূহূর্তেই সরকারের উচিত হবে লকডাউনে যাওয়া। কারণে প্রবাসীরা এসেই নানাজনের সাথে দেখা সাক্ষাত, বেড়ানো থেকে শুরু করে সবকিছুই করে ফেলেছেন। এখনই অন্তত দুই সপ্তাহ লকডাউনে রাখা গেলে কারা অসুস্থ হচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া যাবে। নইলে এই ভাইরাস আরো দ্রুত ছড়িয়ে যাবে। তখন আর নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে না। 

স/সা

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর