• বুধবার   ০৮ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৪ ১৪২৬

  • || ১৪ শা'বান ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৫১

রাজশাহী শাহমখদুম মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদন ছাড়াই চালানো হচ্ছে রাজশাহীর শাহমখদুম মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। এতে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অন্ধকার নেমে এসেছে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে। রোববার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন। 

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, গত সাত বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হলেও এখন পর্যন্ত মেলেনি বিএমডিসির অনুমোদন। এর আগে ২০১৪ সালেও এই কলেজটির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তির অভিযোগ উঠে। সেসময় মেডিকেল কলেজের অনুমতি না থাকার পরেও ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে ওইসময় বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর ২০১৫-১৬ সেশনে অনুমতি ছাড়াই ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করায় পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করে দেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ওই সময় মেডিকেল কলেজটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত ছিল।

শাহমখদুম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, এই কলেজের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গত বছর মাত্র চারজন এমবিবিএস পাশ করেছেন। কিন্তু এমবিবিএস পাশ করেও কলেজটির বিএমডিসির অনুমোদন না থাকায় ওই শিক্ষার্থীরা এক বছর ধরে ইন্টার্নশীপ করতে পারছেন না। এতে করে তারা পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসক হতে না পারায় প্র্যাক্টিসও করার অনুমতি পাচ্ছেন না। ওই চার শিক্ষার্থী হলেন, মামুনুর রশিদ, রুমা খাতুন, জিন্নাহ ও মৌ খাতুন।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, এখন পর্যন্ত মোট সাতটি ব্যাচে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় কলেজটিতে। এর মধ্যে প্রথম দুই ব্যাচ ও চতুর্থ ব্যাচে ২৫ জন করে এবং পরবর্তিতে ৫০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন মিলে। তবে কলেজটিতে শুরু থেকেই অনুমোদন না থাকা, শিক্ষক সংকট এবং হাসপাতালে রোগী না থাকায় আসন ফাঁকাই থেকে যায়। কলেজ কর্তৃপক্ষ শর্ত পূরণ করতে না পারায় বিএমডিসিও অনুমোদন দিচ্ছে না।

কলেজের এমবিবিএস পাশ করা শিক্ষার্থী মামুনুর রশিদ বলেন, নানা সংকটের মধ্যেও গত বছর ১২ মার্চ এমবিবিএস পাশ করেছি। কিন্তু ইন্টার্নশীপ করতে পারছি না। বার বার মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে গেছি। কিন্তু তারা আমাদের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে, যেন আমি বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করি।

এবিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুল ইসলাম স্বাধীন বলেন, প্রথম ব্যাচের চারজন এমবিবিএস পাশ করেছে। কিন্তু বিএমডিসির অনুমোদন না থাকায় ইন্টার্নি করতে পারছে না।  রোগীর চিকিৎসাও দিতে পারছে না। একারণেই তারা আন্দোলন করছে। তাদের একজন উচ্চ আদালতেও গিয়েছে। বিএমডিসির অনুমোদনের জন্য আমরা আবেদন করেছি। তারা পরিদর্শন করে গত ১৯ জানুয়ারি কিছু শর্ত দিয়েছে। তারা বলেছে, আরো শিক্ষক বাড়াতে হবে। রোগীর সংখ্যাও বাড়াতে হবে। শর্তগুলো পূরণের চেষ্টা চলছে।

এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক পরিদর্শন শেষে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন দেয়। কিন্তু সেখানে অবৈধভাবে ৫০জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরে এই অনিয়ম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েরর কলেজ পরিদর্শকের নজরে আসার পর ২০১৬ সালে সেই সেশনের কার্যক্রম স্থগিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু সদুত্তর না পাওয়ায় সেই সেশনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই শিক্ষার্থীরাও নানা ভোগান্তির শিকার হন। 

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
নগর জুড়ে বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর