শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২১ ১৪২৬   ১০ শা'বান ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৩৪

রামেকের বিশেষ ইউনিটে কমবে নবজাতকের মৃত্যুহার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

নবজাতক শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বানানো হচ্ছে ‘স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট’।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তির চিকিৎসা সরঞ্জামের সমন্বয়ে এ ইউনিটে থাকছে এনআইসিইউ, স্টেপ ডাউন, সেপটিক এরিয়া বেডসহ বিভিন্ন সুবিধা। এছাড়া নবজাতকদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা।

রামেক হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই ইউনিটে নবজাতকদের সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। বিভিন্ন জটিল রোগের ক্ষেত্রে তাদের আলাদা ইউনিটে চিকিৎসা দিলে মৃত্যুর ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে। পাশাপাশি তাদের জন্য হাসপাতালের বেডের সংকটও কিছুটা কমে আসবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রামেক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের চিকিৎসার জন্য বেডের সংকট রয়েছে। শিশু বিভাগে তিনটি ইউনিট মিলে বেড সংখ্যা ১২০টি। কিন্তু এখানে ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি অসুস্থ হয়ে শিশু ভর্তি হয়। ফলে একই বেডে একাধিক শিশু ও মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হয়। ফলে একদিকে চিকিৎসক-নার্সদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অপরদিকে অসুস্থ একটি শিশুর শরীরের রোগ-জীবাণুতে আরেক শিশুর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। প্রতিনিয়ত এমন অবস্থায় সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়াও চিকিৎসকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়ে।

রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা বলছেন, হাসপাতালে প্রতিদিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় পাঁচ থেকে ছয়জন শিশু মারা যায়। এর মধ্যে নবজাতক শিশুর সংখ্যা বেশি। স্পেশাল কেয়ার ইউনিটটি চালু হলে ওই সমস্যার কিছুটা সমাধান হবে। হাসপাতালে প্রতিদিন নবজাতকদের সংখ্যা থাকে ১শ জনের মতো। এই অবস্থায় ৪০টি বেডের ব্যবস্থা হলেও এখনো দরকার এমন আরও ৬০টি বেড।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্পেশাল ইউনিটে শিশুদের জন্য মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য রয়েছে কেএমসির আলাদা বেড। এর পাশেই ল্যাব ও চেঞ্জিং ব্যবস্থা। এরপরেই প্রথম অবস্থায় থাকছে এনআইসিইউর সাতটি বেড যেখানে প্রথম অবস্থায় শিশুদের রাখা হবে। পরে এই বেডের শিশুদের রাখা হবে স্টেপ ডাউন বেডে। এখানে বেডের সংখ্যা থাকছে মোট ৯টি। স্টেপ ডাউনের পরে আসবে সেপটিক এরিয়া বেড। এখানে মোট ১১টি বেড রয়েছে। সেপটিক বেডের পরে নন-সেপটিক এরিয়া বেডে মোট ১৩টি বেড থাকবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ওই ইউনিটটি নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। এখন এতে ২৭টি সরঞ্জাম বসানোর কাজ শেষ। আর অক্সিজেনের সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ স্থাপন এবং ৯টি শীতাতপ যন্ত্র (এসি) যুক্ত হলেই এই ইউনিটটি চালু করা হবে।

রামেক হাসপাতালের শিশু-বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. বেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুহার হাজারে ৩৮জন। এর মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ হলো কম ওজনের জন্ম নেওয়া নবজাতক। এই নবজাতকগুলোর বেশিরভাগেরই সেপ্টিসিমা সংক্রমণ হয়। এদের যদি আমরা আলাদাভাবে চিকিৎসা দিতে পারি তবে, হাসপাতালে শিশু মৃত্যুহার অনেক কমে যাবে।

তিনি আরও বলেন, সেপ্টিসিমা, জন্ডিস এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধাগ্রস্ত হওয়া এই তিনটাই হচ্ছে অত্যন্ত কম ওজনের শিশুদের মৃত্যুর কারণ। রামেক হাসপাতালে বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফের তত্ত্বাবধানে শিশু বিভাগে নতুন ৪০ শয্যা বিশিষ্ট ইউনিটের সব কার্যক্রম এখন শেষের দিকে। শুধু বিদ্যুৎ ও অক্সিজেনের ব্যবস্থা হলে এর উদ্বোধন করা হবে। আশা করছি, দ্রুতই নতুন ওই ইউনিটে শিশুদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।

রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম ফেরদৌস বলেন, নতুন ওই ইউনিটটি দ্রুতই চালু হবে। সব কার্যক্রম এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই ইউনিট চালু হলে শিশুদের চিকিৎসায় হাসপাতালের সেবার মান দ্বিগুণ বাড়বে।

স/সা

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর