• মঙ্গলবার   ২৬ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৪৭

সড়কে নির্মাণ সামগ্রী : দূর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে পথচারি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯  

বাঘায় প্রধান সড়ক থেকে পাড়ার সড়কগুলোও এখন নির্মাণ সামগ্রী রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে উপজেলা ও পৌর এলাকার সড়কগুলো। সকাল সন্ধ্যা যানবাহন চলাচল থেকে শুরু করে কষ্টের মধ্যে চলাচল করছে পথচারীরা।  দূর্ঘটনার শিকার হয়ে  মৃত্যুবরণ করেছে চালকসহ অনেক পথচারী। 

গত ২৪ ডিসেম্বর বাঘা-আড়ানী সড়কে পৌরসভার মোজাহার হোসেন মহিলা ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন এলাকায় দুঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারায় উপজেলার ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ। উপজেলা আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান শেষে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে ওই স্থানে ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একইদিন রাতে মারা যান তিনি । 
 

স্থানীয়রা জানান,নিরাপত্তা ব্যবস্থা না করেই ওই সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। সংকুচিত রাস্তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় র্দুঘটনার কবলে পড়েন ওই শিক্ষক। মোজাহার হোসেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নছিম উদ্দনি জানান,নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নেয়ার কথা বললেও  কোন কর্ণপাত করছেন না। 

সরেজমিন দেখা গেল,ওই সড়কের পাশে কলেজ ছাড়াও দু’পাশে রয়েছে দু’টি বেসরকারি ক্লিনিক। এর ৫০ গজ উত্তর দিকে একই সড়ক বেয়ে যেতে হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সড়কের দু’পাশে রাখা হয়েছে বালি আর ইট ।

চারঘাট-বাঘা সড়কের জনবহুল বাণিজ্যিক এলাকা পৌরসভার জিরো পয়েন্ট। এই সড়কের দক্ষিন পাশে এনআরবিসি ব্যাংকের একটু পশ্চিমে  প্রতিষ্ঠান ভবন নির্মাণ সামগ্রী ইট আর বালু রাখা হয়েছে সড়ক ঘেষে । আবার কোন কোন সড়কের বেশিরভাগ অংশই দখল করে  চলছে বহুতল বভন নির্মাণের কাজ।  অলিগলির সড়কের উপড়ে যত্রতত্রভাবে রাখা হয় লোহার রড,বালু, ইটের খোয়া,পুরোনো টিন,কাঠসহ নানা ধরণের নির্মাণ সামগ্রী। তেথুলিয়া-দিঘা ও বাউসা-দিঘা সড়কজুড়ে রাখা হয়েছে আখের ছোবড়া। এতে করে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের মধ্যেই দিন পার করছে এই সড়কে চলাচলকারি যানবাহনসহ পথচারিরা। সংকুচিত সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যানবাহন ও পথচারি । দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আহত-নিহত হয়েছেন অনেকে।

চলতি বছরের ২৯ অক্টোবর ষ্টিয়ারিং নির্মিত ভটভটির মুখোমুখি সংঘর্ষে  মৃত্যুবরণ করেছেন মিনহাজুল ইসলাম মিজান (৩২)। ৩১ আগষ্ট বাঘা-ইশ্বরদী সড়কে ভটভটি-থ্রি হুইলার (সিএনজি) সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন চালকসহ ৪জন। আশংকাজনক অবস্থায় বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে, মারা যায় সীমা নামের এক নারি। নিহত সীমা মানিকদিয়াড় গ্রামের আলমের স্ত্রী। ২৩ জুন  মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মারা যায় ক্ষুদিছয়ঘটি গ্রামের রান্টুর ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্র মিজানুর রহমান।। ০২ মে মনিগ্রাম ইউনিয়নের মীরগঞ্জে বাস ও নসিমনের সংঘর্ষে বাস উল্টে নিহত হয় বাসের হেলপার শমসেরের ছেলে আব্দুল হানিফ (২৭), বাসের যাত্রী উপজেলার মীরগঞ্জ বান্ধাবটতলা গ্রামের মনসুর রহমানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪২) ও হরিরামপুর দাড়পাড়া গ্রামের পিয়ার উদ্দিনের স্ত্রী বাদল বেওয়া (৪৫)। এছাড়াও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নাজমুল নামের আহত এক শিক্ষকের এক হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। এরকম অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। পথচারী ও শিক্ষার্থীরা জানান, নির্মাণ সামগ্রী সড়কে রেখে কাজ চালানো এখন ফ্যাশনে পরিণত হয়ে গেছে।   যার ফলে আতঙ্কের মধ্যে তাদের পথ চলতে হয়। 
পাবলিক ন্যুইসেন্স আইন অনুযায়ী সড়কে ইট, বালু, পাথর, সুরকি ও সিমেন্ট রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীর জেল-জরিমানা এবং মালামাল জব্দ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ভবন নির্মাণকারীরা এ আইন মানছে না। 

বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলী সহিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখতে হবে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি। বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিন রেজা বলেন, সড়কের ওপরে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা খুবই অন্যায়। সকলে সচেতন না হলে আইন দিয়ে সবকিছু হয়না। তবে দ্রæত সড়কের ওপর থেকে নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা নিবেন।

 

এমএমআই

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
রাজশাহী বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর