• শনিবার   ৩০ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪২৭

  • || ০৭ শাওয়াল ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৭০৮

‘চাচি বাসায় আছেন, আমি চারঘাটের ইউএনও, খাবার নিয়ে এসেছি’

আবুল কালাম আজাদ সনি, চারঘাট

প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২০  

'আসসালামু আলাইকুম। চাচি বাসায় আছেন। আমি উপজেলার ইউএনও। আপনার বাসায় আর কে কে আছেন? আমরা জেনেছি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বাড়িতে অবস্থান করায় আপনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আমি সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য খাদ্যসামগ্রী নিয়ে এসেছি।'

হতদরিদ্র আনোয়ারা বেগমের বাসায় গিয়ে ঠিক এভাবেই ডাক দিলেন চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা। পরে ওই নারীর হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন তিনি। করোনার প্রকোপ শুরুর পর থেকে একইভাবে চারঘাট উপজেলার প্রতিটা পৌরসভা ও ইউনিয়নের গ্রামে হেঁটে হেঁটে স্বল্প আয়ের মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন সৈয়দা সামিরা।

বাড়িতে ইউএনওর আকস্মিক আগমনে অবাক হয়েছেন অনেক হতদরিদ্র মানুষ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন সবাই।

আনোয়ারা বেগম জানান, দশ বছর আগে সড়ক দূর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। দিনমজুর ছেলে পৃথক সংসার পেতেছেন। একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনোমতে চলছিল তার একার সংসার। দিনে এনে দিনে খেয়ে চললেও সরকারের অঘোষিত লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ঘরে থাকা সামান্য মজুতও ফুরিয়ে গেছে। এ অবস্থায় অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। হঠাৎ খাবার নিয়ে বাড়িতে ইউএনও আসায় আমার মনটা ভরে গেল। আমি মন ভরে ইউএনও এবং সরকারের জন্য দোয়া করছি।

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা সামিরা বলেন, আমরা সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার জন্য অনুরোধ করছি। কর্মহীন হয়ে পড়া সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পোঁছে দিচ্ছি। উপজেলা জুড়ে সরকারের পক্ষ থেকে ১ম ভাগে ২ হাজার ৮০০ পরিবারকে এবং ২য় ভাগে ১ হাজার ৪০০ পরিবারকে ১০ কেজি চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় চালের সাথে ডাল, তেল, আলু, লবন ও মরিচ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই জনগন বাড়িতে থাকুক। যারা কর্মহীন হতদরিদ্র হয়ে বাড়িতে বসে আছে,তাদের আমরা খাবার পৌঁছে দেবো। সবার সচেতনতার মাধ্যমেই করোনা মোকাবেলা করা সম্ভব।

স/এমএস

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
রাজশাহী বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর