বৃহস্পতিবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৭ ১৪২৬   ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আমার রাজশাহী
২২৪৬

চারঘাটে মাসুদ রানার দাপটে স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা

আবুল কালাম আজাদ (সনি)

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

রাজশাহীর চারঘাটে একজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে ক্লাস না নিয়ে শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা তুলছেন। ওই শিক্ষকের নাম মাসুদ রানা।তিনি উপজেলার বড়বড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়ে রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তদন্তে নেমেছেন।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯১৭ সালে বড়বড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মাসুদ রানা।পরবর্তীতে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব নেন। শনিবার(২১শে সেপ্টেম্বর) সরেজমিন বড়বড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়,শিক্ষার্থীরা যে যার মত করে খেলছে।

স্কুলে ৫জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও উপস্থিত রয়েছেন মাত্র দুজন।একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে,একজন ট্রেনিং এ,আর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা অনুপস্থিত। মাত্র ২ জন শিক্ষক দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।মাসুদ রানার অনুপস্থিতের ব্যাপারে কেউ কিছু জানাতে পারেন নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই মাসুদ রানা ঐ প্রতিষ্ঠানে নিজের দাপট দেখানো শুরু করেন।সকল নিয়ম নীতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে একছত্র আধিপত্য কায়েম করেন।তিনি কখনও নিজেকে আ'লীগের নেতা, আবার কখনও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের কাছের মানুষ বলে নিজেকে দাবী করেন।

নিয়মিত স্কুলে না এসে পিয়ন কে দিয়ে হাজিরা খাতা বাসায় নিয়ে গিয়ে সাক্ষর করা,বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরী নিয়োগের সময় কামরুল নামের এক ব্যাক্তির কাছে থেকে আড়াই লক্ষ টাকা নিয়েও অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া,ঐ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা মাতৃত্বকালীন সময়ে দেরি করে স্কুলে যাওয়ায় সবকিছু ম্যানেজের নামে মাসিক ৭ হাজার টাকা হিসাবে চাঁদা দাবী করা,বিদ্যালয়ের প্রাইজমানির টাকা আত্নসাৎ করা সহ মাসুদ রানার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বড়বড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী ও কয়েকজন অভিভাবক জানান, গত দুই বছর যাবৎ বিদ্যালয়ে কখনই নিয়মিত আসেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিক মাসুদ রানা।শুধু খেলাধুলার সময়গুলো!তে স্কুলে আসেন তিনি। ক্লাস নেয়া তো দূরের কথা শিক্ষক হাজিরা খাতাও তার বাসায় নিয়ে গিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষিক মাসুদ রানা দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যালয়ে অনিয়মিত থাকার বিষয়টি সবাই জানেন।তাকে একাধিকবার শোকজও করা হয়েছে। তবুও তিনি শোধরানোর চেষ্টা করেননি। উল্টো শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের কে বিভিন্ন ভাবে তিনি ভয় ভীতি প্রদর্শন করেছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে বড়বড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাসুদ রানা কে ফোন করা হয়।তিনি অভিযোগের কথা গুলো শুনে পরে কথা বলছি বলে কলটি কেটে দেন।পরে আর সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

রাজশাহী জেলা আ'লীগের সদস্য সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন,মাসুদ রানা নিজেকে ঐ প্রতিষ্ঠানের মালিক মনে করেন।বড়বড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা গোল্ডকাপ ফুটবল টুনামেন্টে সারা দেশের মধ্যে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে এবং ৫০ হাজার টাকা প্রাইজমানি পায়।সব টাকা ঐ মাসুদ রানা নিজেই আত্নসাৎ করে।এছাড়াও তার সেচ্ছাচারীতায় বড়বড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

চারঘাট উপজেলা আ'লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফকরুল ইসলাম বলেন,মাসুদ রানা আ'লীগের কেউ না।আ'লীগের সাথে তার কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সালাম বলেন, মাসুদ রানার ব্যাপারে আমিও শুনেছি।তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও পেয়েছি আমরা।এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে সেটা দেখে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারবো।

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর