বৃহস্পতিবার   ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৭ ১৪২৬   ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আমার রাজশাহী
২৩৯৭

চারঘাটে শিক্ষকের নাক ফাটালেন শিক্ষিকার স্বামী!

আবুল কালাম আজাদ সনি, চারঘাট

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০১৯  

আহত শিক্ষক বজলুর রশীদ।

আহত শিক্ষক বজলুর রশীদ।

রাজশাহীর চারঘাটে এক শিক্ষকের নাক ফাটিয়ে আহত করেছেন একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকার স্বামী। বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধর্মহাটা সরকারী বিদ্যালয়ে।আহত ঐ সহকারী শিক্ষকের নাম বজলুর রশীদ। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত শিক্ষক বজলুর রশীদ জানান, তিনি অন্য দিনের মত ২য় শ্রেনীর ঘরে ক্লাস নিতে যান।গিয়ে দেখেন মেরাতুন খাতুন প্রথম ক্লাস শেষ করে ২য় একটা ক্লাস নেওয়া শুরু করেছে। তিনি একসাথে পরপর দুইটা ক্লাস না নিয়ে ঐ শিক্ষিকাকে ২য় ক্লাসটা পরে নিতে বলেন। তাতে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী এসে দুজনকে শান্ত করেন। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরেই মেরাতুন খাতুনের স্বামী হাবিল উদ্দীন এসে বজলুর রশীদকে কিল ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দেন।

এদিকে শিক্ষিকা মেরাতুন খাতুন আহত শিক্ষক বজলুর রশীদকে অভিযুক্ত করেছেন।

মেরাতুন খাতুন বলেন, বজলুর রশীদ তার সাথে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব করে আসছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে তিনি একাধিকবার অভিযোগ দিয়েছেন। তবুও ঐ শিক্ষক নিজেকে শোধরানোর চেষ্টা করেননি। মাঝে মধ্যেই কোনো কারন ছাড়া ঐ শিক্ষক তাকে ইচ্ছে করে শরীরের সাথে ধাক্কা দিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করেন।

তিনি আরো বলেন, বজলুর রশীদ প্রায় দিনই সকাল ১১টার পরে স্কুলে আসেন। গত তিন দিনের একদিনও প্রথম ক্লাস নেননি। আজ বুধবারও ১১টার পরে স্কুলে এসেছে। এসেই ২য় শ্রেনীর রুমে চলে আসে, এসে বলে এখন আমি ক্লাস নেবো।ক্লাসটা শেষ হবার পরে তাকে আসতে বললেও তিনি শোনেননি। উল্টো ঝগড়া শুরু করে দেন এবং বাজে ব্যাবহার করেন। বজলুর রশীদের বাজে ব্যবহারের কথা তার স্বামী হাবিল উদ্দীনকে তিনি ফোন করে জানান। এর কিছুক্ষণ পরেই হাবিল উদ্দীন এসে রাগের মাথায় হাত দিয়ে শিক্ষক কে আঘাত করেছেন। এটা রাগের মাথায় তার স্বামী ভুল বশত করে ফেলেছেন বলে দাবী করেছেন শিক্ষিকা মেরাতুন খাতুন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্মহাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিশ আলী বলেন, একসাথে শিক্ষকতা করতে গেলে একটু আধটু মনোমালিন্য হয়ে থাকে। তবে সেটা নাক ফাটিয়ে দেবার মত পর্যায়ে যায়নি। কিন্তু শিক্ষকার স্বামী এসে কোনো কথা না শুনেই বজলুর রশীদকে নাক ফাটিয়ে দিয়েছেন। তবে বজলুর রশীদ মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে চারঘাট উপজেলা শিক্ষা অফিসার রশিদা ইয়াসমিন জানান, আমি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। উক্ত ঘটনার সঠিক তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর