বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৯ ১৪২৬   ০৮ শা'বান ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৩৮

জলাবদ্ধতায় প্রায় চার বিঘা জমি অনাবাদী 

আব্দুল লতিফ মিঞা, বাঘা

প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি ২০২০  

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বড়ছয়ঘটি মাঠে ১৩ বিঘা জমি রয়েছে এ গ্রামের আব্দুল হান্নাফের। ২০১২ সালের আগ পর্যন্ত সেই জমিতে বছরে তিনটি করে ফসল ফলাতেন তিনি। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের নালা বন্ধ করে দেওয়ায় এই তিন ফসলি জমি আর আবাদে উঠছে না। তিনি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননে এলাকার কৃষিজমির পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে বর্ষার পানি আটটিকার পোড়াসাঁকোর নিচ দিয়ে পার হয়ে চলন বিলে চলে যেত।

খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা জমে থাকা পানি মাটির নিচে নামিয়ে দেওয়ার জন্য ‘হাউস বোরিং’ করেছেন। একেকটি রোরিং করতে আট-নয় হাজার টাকা খরচ হয়েছে। রোরিং দিয়ে পানি নামিয়ে কয়েক বছর শুধু বোরো ধান করা গেছে। এবার আর তাও হচ্ছে না। 

একই কারণে দুই বিঘা জমির সব আমগাছ মরে গেছে, চন্ডিপুর গ্রামের মোহাম্মদ ফেলু প্রামানিকের। তার দুই ভাইয়ের চন্ডিপুর ও বড়ছয়ঘটির মাঠে প্রায় ২৫ বিঘা জমি রয়েছে। সবই তিন ফসলি। গতবছর পর্যন্ত শুধু বোরো ধান চাষ করা গেছে। এবার সেই মাঠে এখনো  কোমর পর্যন্ত পানি। জমিতে কোনো আবাদই হবে না। নিরুপায় হয়ে পড়েছেন তারা। ফেলু প্রামানিক বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে তার আত্মীয় স্বজনের প্রায় ৭০ বিঘা জমি একইভাবে অনাবাদি হয়ে পড়েছে। এই গ্রামের কৃষক একে আজাদ বলেন, চন্ডিপুর মাঠে তার ১৫ বিঘা জমি আছে। তার মধ্যে চার বিঘা আমবাগান ছিল। দুই-তিনটি গাছ ছাড়া সবই মরে গেছে। আগে এই মাঠের জমি ১০-১২ হাজার টাকায় বছরে ইজারা দিতেন। এখন কেউ আর ইজারাও নিচ্ছেন না। আমের ব্যবসা করেন বলে  ১০/১২ লাখ টাকার আম কিনেছেন এই মাঠে। এখন আর সেই বাগান নেই। যে কয়টি গাছ আধমরা হয়ে বেঁচে আছে তাতে কোনো ফল হয় না। যদিও হয় তাও আকারে ছোট হয়ে থাকে।

চন্ডিপুর গ্রামের এনামুল হক বলেন, চন্ডিপুর মাঠে ১৫ বিঘা জমি আছে। আবাদ না হওয়ার কারণে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বড়ছয়টি গ্রামের আসাদুল ইসলাম জানান, তার ২০ বিঘা জমি ইজারা নেওয়া ছিল। তাতে কোনো আবাদ না হওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়ে গেছেন।

সরেজমিন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে,একসঙ্গে লাগোয়া বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর, বড়ছয়ঘটি ও লালপুর উপজেলার বসন্তপুর, রাধাকৃষ্ণপুর ও মীর্জাপুর মাঠ। অপরিকল্পিত পুকুর খননের কারণে কৃষি জমির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে এসব এলাকার কৃষকের সর্বনাশ হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী এই এলাকার প্রায় ৪ হাজার বিঘা জমি এখন জলাবদ্ধতার শিকার। এলাকায় অনেক আমবাগান ছিল। দীর্ঘদিন পানিবন্দী থাকার কারণে একে একে মাঠের সব আমগাছ মরে যাচ্ছে। পুকুর খননের কারনে এই মাঠ ছাড়াও বাঘা উপজেলার নওটিকা-ধন্দহর বিল,বারখাদিয়া, নওটিকা, আরিফপুর, আমোদপুর, খুদে ছয়ঘটি, জোতরাঘবসহ লালপুরের রাধাকান্তপুর ও বোয়ালিয়া পাড়ার বিল,চারঘাট উপজেলার কাঁকড়ামারির বিলেও জলাবদ্ধা একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এলাকাবাসী জানান,অনেকেই এখন আবাদি জমিতে পুকুর খনন করছেন। অনুমতি ছাড়া কেউ জমির শ্রেণি পরিবর্তন করতে পারবে না, এরকম একটি আইন থাকলেও  তা মানা হচ্ছেনা। লাভজনক হওয়ার কারণে অনেকই কৃষি জমি ইজারা নিয়ে পুকুর খনন করছেন। গত মাসে উপজেলার ফতেপুর বাউসায় পুকুর খনন নিয়ে মুখোমুখি হয় দু’টি পক্ষ। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে জরিমানা করে বন্ধ রাখা হয়।

বাজুবাঘা ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট ফিরোজ আহাম্মেদ রঞ্জু বলেন, সব ধরনের ফসল উৎপন্ন হয় বলেই রাজশাহীর বাঘা,কৃষি প্রধান উপজেলা বলে খ্যাত। সমস্যা দূরিকরণে, কিছু পুকুর নষ্ট করে হলেও  পানি নিষ্কাশনের জন্য মালিকানাধীন জমিতে নালা তৈরিসহ সরকারি খালের দখল ও পুকুর খনন বন্ধ করতে হবে। এটি সফল  করতে এলাকার মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, সোমবার এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তবে সমস্যা নিরসনে, বিষয়টি  বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষসহ কৃষি মন্ত্রনালয়কে অবগত করবেন। তবে অবৈধ পুকুর খননের জন্য পুকুর মালিকের জরিমানা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
 

এন/কে

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর