বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৮ ১৪২৬   ০৮ শা'বান ১৪৪১

আমার রাজশাহী
২৩৯

তানোরে হু হু করে বাড়ছে নিত্য পণ্যের দাম

মিজানুর রহমান, তানোর

প্রকাশিত: ২১ মার্চ ২০২০  

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

করোনা ভাইরাসে আতঙ্কের কারণে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কাঁচাবাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম দিগুন থেকে তিনগুণ বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চাল, আলু, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুনের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ৭০ টাকা।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব দোকানে দ্রব্যমূল্যের দাম নির্ধারণ ও পণ্যের দাম না বাড়াতে সতর্কের নির্দেশ দিলেও সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রশাসন কোনো জোরালো পদক্ষেপ না নেয়ার এমনটি হচ্ছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) দিনভর উপজেলার হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে লক ডাউন হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন নিত্যপণ্যের দোকানগুলোতে। কার আগে কে মালামাল কিনে নেবেন এমন প্রতিযোগিতা বিদ্যমান ছিল তানোর উপজেলার সব স্থানে। আর পরিবহন বন্ধ হওয়ার বাহানা দেখিয়ে দোকানিরা অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নিচ্ছেন। 

অনেকেই আবার বিক্রেতাদের সাথে ঝগড়া করছেন কেন দাম বেশি নেয়া হচ্ছে। আড়ত মালিকরা কোনো কথাই শুনছেন না। তারা সিন্ডিকেট করে কোনো কারণ ছাড়াই চাল, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, আলুসহ সব পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন।

দ্রব্যমূল্যের এ ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের আশঙ্কা এভাবে দাম বাড়তে থাকলে খেটে খাওয়া মানুষদের অনাহারে মরতে হবে।

সিহাবুর রহমান নামে এক শ্রমিক জানান, গত (বৃহস্পতিবার) আলুর দাম ছিল ১২ টাকা কেজি। আর গতকাল (শুক্রবার) ২২ টাকা কেজি। আলু তো এলাকার ফসল, আলুর দাম বাড়ে কিভাবে? রাকিবুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রতি মণ পেঁয়াজে ১২শ টাকা বেশি দিতে হয়েছে। এই পেঁয়াজ খুচরা বাজারে ব্যবস্যায়ীরা কেজিতে আরও ৩০ টাকা বেশি দরে বিক্রি করছেন। 

তিনি আরও বলেন, ‘আগেরদিন যে চাল বস্তা প্রতি বিক্রি হয়েছে ১১০০ থেকে ১৩০০ টাকায়। এক দিনের ব্যবধানে সে চালের বস্তা বিক্রি হতে দেখা গেছে ১৬০০ থেকে ২২০০ টাকায়। আর ভোজ্যতেল পাঁচ লিটার সাড়ে ৪০০ টাকার জার প্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।’

গোল্লাপাড়া বাজারের খুচরা বিক্রেতা আলম আলী জানান, পাইকাররা বেশি দাম নিচ্ছেন, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পাইকার ব্যবসায়ীরা জানান, মোকাম থেকে বেশি দামে কেনার কারণেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে কেবল নিত্যপণ্যই নয়, ফার্মেসিগুলোতে নেই জীবাণুমুক্ত করার লিকুইড হেক্সাসল। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত একটি ছোট আকারের বোতল হেক্সাসল দ্বিগুণ দাম ২০০ টাকায়ও কিনেছেন অনেক ক্রেতারা।

এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো জানান, কোনো ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট করার কোনো সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে সব দোকানে দ্রব্যমূল্যের দাম নির্ধারণ ও পণ্যের দাম না বাড়াতে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে ও দাম বেশি নিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স/এমএস

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর