• সোমবার   ০১ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭

  • || ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৪২

ফাঁসির মঞ্চে নিশ্চুপ ছিলেন খুনি মাজেদ

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২০  

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আব্দুল মাজেদের ফাঁসি শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে কার্যকর করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এই ফাঁসি কার্যকর করা হয়। প্রায় পাঁচ মিনিট ঝুলিয়ে রাখার পর তার লাশ ফাঁসির মঞ্চ থেকে নিচে নামিয়ে আনা হয়। পরে সিভিল সার্জন তার হাত-পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

কারাসূত্রে জানা যায়, ফাঁসির মঞ্চে কোন কথা বলেন নি বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদ। একবারেই নিশ্চুপ ছিলেন।

দণ্ড কার্যকরের সময় জেলা প্রশাসক, জেল সুপার, সিভিল সার্জন, আইজি প্রিজন উপস্থিত ছিলেন বলে কারাগারের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এর আগে জল্লাদ শাহজাহানের নেতৃত্বে একটি দল কনডেম সেলে প্রবেশ করে মাজেদের হাত বেঁধে যম টুপি পরিয়ে দেন। তার আগে তওবা পড়ান কারাগারে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম। রাত ১১টার দিকে তাকে তওবা পড়ানো হয়। এসময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ইমামের হাত ধরে চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন।

এর আগে শনিবার রাত সোয়া ১১টায় কারাগারের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সন্ধ্যার পর গোসল সারেন মাজেদ, তারপর রাত সাড়ে ৮টায় এশার নামাজ শেষ করেন। পরে তাকে শেষবারের মতো রাতে খাবার দেওয়া হয়। রাত সাড়ে দশটা সিভিল সার্জন প্রবেশ করেন। তারপর কারাগারে প্রবেশ করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক ও কারা মহাপরিদর্শক (আইজ প্রিজনস)।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যে ছয় আসামি পলাতক ছিলেন, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মাজেদ তাদেরই একজন। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অন্য খুনিদের মত মাজেদও ‘পুরস্কার হিসেবে’ সরকারি চাকরিতে উঁচু পদ পেয়েছিলেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বিচারের পথ খুললেও দুই দশকের বেশি সময় ভারতে পালিয়ে থেকে বিচার এড়ান মাজেদ। গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করতে বুধবার ঢাকার জজ আদালত মৃত্যু পরোয়ানা জারি করেন।

রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সময় বহু বছর আগেই পেরিয়ে যাওয়ায় আবদুল মাজেদের সামনে সেই সুযোগ আর ছিল না। প্রাণ বাঁচাতে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন, তার সেই চেষ্টাও বিফলে যায়।

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
আদালত বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর