সোমবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৪ ১৪২৬   ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আমার রাজশাহী

বাঘায় পরীক্ষা ও ছাড়পত্র ছাড়াই জবাই হচ্ছে পশু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

রাজশাহীর বাঘায় উপজেলাসহ পৌর এলাকার প্রায় সব হাট-বাজারে প্রতিদিন গরু-মহিষ ও ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রি করেন মাংস ব্যবসায়ীরা। লোকচক্ষুর অন্তরালে জবাই করা গবাদিপশুর মাংস বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি করেন তারা। বকনা গাভী হলেও বিক্রি করেণ এঁড়ে গরুর মাংস বলে। একই অবস্থা ছাগলের ক্ষেত্রেও। ডাক্তারি পরীক্ষা ও ছাড়পত্র ছাড়াই বাজারগুলোতে পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করলেও নিরব ভূমিকা পালন করছেন কর্তৃপক্ষ। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে লাভবান হচ্ছে এক শ্রেণীর মানুষ।

সাপ্তাহিক বাঘার হাটে মাংসবিক্রির জন্য গত রোববার (১২ জানুয়ারি) ভোরে একটি গাভী পশু জবাই করেন এক মাংস ব্যববসায়ী। তার জবাই করা গাভীটির পেটে ছিল একটি বাচ্চা। গর্ভাবস্থায় গাভীটি জবাই করার ফলে পেটে থাকা বাচ্চা পশুটি মৃত্যুবরণ করে। ঘটনা জানাজানির এক পর্যায়ে কতিপয় ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে মাংস নিয়ে সটকে পড়েন মাংস ব্যবসায়ী (কসাই)।

এই হাটের মাংস ব্যবসায়ী মিলন জানান, জবাইকরা গাভীটির পেটের বাচ্চা পশুরটির বয়স আনুমানিক ৫/৬ মাস হবে। বাঘা বাজার কমিটির সহিদুল ইসলাম এর সত্যতা স্বিকার করে বলেন, পরে ওই মাংসগুলো কি করেছে, তা তিনি জানেন না। উপজেলার বেলালের মোড় এলাকার মোজাফফর নামের এক মাংস ব্যবসায়ী (কসাই) গাভীটি জবাই করেছিলেন বলে জানা গেছে।

মাংস ব্যবসায়ী (কসাই) মোজাফফর জানান, বাচ্চা পশুসহ মাংসগুলো পুঁতে ফেলা হয়েছে। কোথায় পুঁতেছেন, জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি। তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই পশুটি জবাইয়ের কথা স্বীকার করেছেন তিনি। 

সচেতন মহল বলছেন, সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের রোগ নির্ণয়ে কোনো ধরনের তদারকি না থাকার ফলে সাধারণ ক্রেতারা ভেজালমুক্ত মাংস কেনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব কার সেটা নিয়ে বিভ্রান্ত সাধারণ মানুষের। 

জামাল নামের এক ক্রেতা বলেন, জবাইয়ের আগে পশু অসুস্থ্ নাকি সুস্থ ছিল আমরা তা অনেকেই জানি না। তবে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই জবাই করা হয়। এসব গবাদিপশুর বিভিন্ন জটিল রোগও থাকতে পারে। 

জানা গেছে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসহ হাট-বাজার রয়েছে ২২ (বাইশ)টি। বিভিন্ন স্থানে হাট বসে সপ্তাহের দুই দিন। হাটের দিনে একটু বেশি গরু-মহিষ,ছাগল জবাই হয়। কিন্তু গবাদিপশু পরীক্ষার জন্য নিজস্ব কোনো জনবল ও শেডঘর নেই। ব্যবসায়ীর তৈরি বিক্রয় কেন্দ্রে মাংস বিক্রি হয়।

পৌরসভার মাংস বিক্রেতারা বলেন, তাদের কাছ থেকে গরু প্রতি ১০০ টাকা আদায় করা হয়। নির্ধারিত পশু জবাই কেন্দ্র না থাকায় তারা বিভিন্ন স্থানে পশু জবাই করে থাকেন।

এদিকে গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া ও উটের মাংস বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য ‘গবাদি পশু জবাই (বিধিনিষেধ) ও মাংস নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইন রয়েছে। প্রচলিত আইনে বলা হয়েছে,‘নির্ধারিত স্থানে এবং স্থানীয় সরকারের তদারকি ও পশু চিকিৎসকের ছাড়পত্র ছাড়া বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কোনো পশু জবাই ও মাংস বিক্রি করা যাবে না। অনুমোদিত স্থানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে যন্ত্রপাতি,বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে। পশু জবাই করার আগে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ছাড়পত্র এবং পশুর শরীরে সিল দেবেন। কিন্তু এই আইন অমান্য করে বিভিন্ন বাজারে জবাই করা হচ্ছে গবাদিপশু।  

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা.আমিনুল ইসলাম বলেন,পশু জবাই ও মাংস বিক্রির জন্য শেডঘরসহ গবাদিপশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্বে একজন ডাক্তার থাকার কথা রয়েছে। পশু জবাইয়ের আগে ভেটেরিনারি সার্জন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জবাইয়ের অনুমতি দিবেন। কিন্তু এ ধরনের ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিধিমালা অনুযায়ী মান বজায় রাখার বিষয়টি দেখার প্রধান দায়িত্ব রয়েছে, স্থানীয় সরকারের ইউনিটগুলোর ওপর। এবিষয়ে আমার সহযোগিতা চাইলে আমি করবো। 

বাঘা পৌর মেয়র আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশের কোন হাট বাজারে পশু পরীক্ষার ছাড়পত্র নিয়ে জবাই করা হয় বলে আমার জানা নেই। তবে পশু জবাই ও মাংস বিক্রির জন্য পৃথক পৃথক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহি অফিসার শাহিন রেজা বলেন, ‘আইন যাই করা হোক না কেন, এর প্রয়াগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।’ সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিবেন।

স/এমএমআই

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর