বুধবার   ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৭ ১৪২৬   ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৩১০

মার্কিন কংগ্রেসে ইতিহাস

প্রকাশিত: ৭ নভেম্বর ২০১৮  

ইলহান ওমর এবং রাশিদা তালাইব যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম নারী হিসেবে প্রথমবারের মত কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তারা দুজনই ডেমোক্র্যাট দলের টিকিট নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এদের একজন সোমালিয়ায় গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী হিসেবে ঠাঁই নিয়েছিলেন। অন্যজন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মিনসোটা অঙ্গরাজ্য থেকে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী মুসলিম নারী ইলহান ওমর। এর আগে এই রাজ্য থেকেই প্রথম মুসলিম হিসেবে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন কেইথ ইলিসন। সম্প্রতি রাজ্যের এটর্নি জেনারেলর পদে নির্বাচন করার জন্য তিনি কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। তার ছেড়ে দেয়া শূন্য আসনে জয় পেলেন ইলহান ওমর।

গত মাসে এক সাক্ষাৎকারে ইলহান ওমর বলেছিলেন, ‘আমি কখনও যুক্তরাষ্ট্রে আসার কথা ভাবিনি। এমনকি শৈশবে যাওয়ারও সুযোগ পাইনি। কেননা উদ্বাস্তু শিবিরে আমি তো কেবল খাদ্য নিয়েই চিন্তা করতাম।’

শৈশবে তিনি চার বছর কেনিয়ার এক উদ্বাস্তু শিবিরে দিন কাটান। সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় মাত্র ১৪ বছর বয়সে দাদার সঙ্গে শরণার্থী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ২০১৬ সালে তিনি প্রথম সোমালি-আমেরিকান হিসেবে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। কাকতালীয়ভাবে ওইদিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং এক প্রচারণা সভায় যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, ওমর হবেন প্রথম নারী যিনি হিজাব পরে মার্কিন কংগ্রেস অধিবেশনে বসবেন।

অন্যদিকে মিসিগান থেকে কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ৪২ বছরের তালিব। ডেট্রয়েট অঙ্গরাজ্যের এক অভিবাসী ফিলিস্তিনি পরিবারের তার জন্ম। বাবা-মায়ের ১৪ সন্তান সন্ততির মধ্যে তালাইব জেষ্ঠ্য। পেশায় আইনজীবী এই নারী ২০০৮ সালে মিসিগান অঙ্গরাজ্য থেকে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মঙ্গলবার নির্বাচনের দিন এক টুইটার বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আজ গোটা দেশের নারীরা নিজেদের রায় জানাচ্ছেন। হ্যা, আমরা এখন রাজধানীর দিকে যাত্রা শুরু করেছি। আমরা আসছি।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী নানা বক্তব্য এবং দেশটিতে চলমান ইসলাম ফোবিয়ার মধ্যে এই দুই নারীর জয় অনেক তাৎপর্যপূর্ণ।

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী