শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২১ ১৪২৬   ১০ শা'বান ১৪৪১

আমার রাজশাহী
৬৫

রাবিতে একুশের ব্যানারে শুধু বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি ব্যবহার!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ব্যানারে শুধুমাত্র বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি ব্যবহার করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ। মুক্তিযোদ্ধা, ইতিহাসবিদ ও প্রগতিশীল শিক্ষকরা বলছেন, দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ভুল অমার্জনীয় ও অনাঙ্খাকিত। এ ধরনে কর্মকান্ডের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের অসম্মান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে  নতুন প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা যাবে।

তবে বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক দীনবন্ধু পাল বলেন, আমরা সকল শহীদদের স্মরণ করে এ ধরনের ব্যানার তৈরি করা হয়েছে। এখানে মুজীব বর্ষের চেতনাকেও ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তাড়াহুড়ার কারনে সেটি করা সম্ভব হয় নি। এখানে কাউকে ছোট কিংবা বড় করা হয়নি।  

বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বিভাগের সামনে থেকে র‌্যালি নিয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর বিভাগের সামনে শেষে র‌্যালি শেষ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ও মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক সরকার সুজিত কুমার বলেন, ইচ্ছাকৃত কিংবা অনিচ্ছাকৃত হোক, এ ধরণের ভুল অমার্জনীয়। এ মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি অসম্মান জানানো হয়েছে।

নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আতাউর রহমান রাজু মনে করেন, ভাষা শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ সবাই আমাদের কাছে সম্মানীয়। কিন্তু সবাই আলাদা আলাদা প্রেক্ষাপটে ও স্বতন্ত্রভাবে সম্মানীয়। সেক্ষেত্রে ভাষা দিবসের ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি অনাঙ্খাকিত ও অপ্রত্যাশিত। এধরনে কর্মকান্ডের আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা যাবে। তারা ভাষা সৈনিক ও বীরশ্রেষ্ঠদের এক করে ফেলতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম বলছেন, এ ধরনের ভুলের মাধ্যমে সংগীত বিভাগ চরমভাবে ইতিহাস সচেতনহীনতার পরিচয় দিয়েছে। এটি যদি সায়েন্স ফ্যাকাল্টির ভুল হতো তবে মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু আদি মানবিকের একটি শাখা সংগীত বিভাগের এ ধরনে ভুল অমার্জনীয়।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, বিষয়টি মাত্র জানতে পেরেছি। বিভাগের সভাপতি সঙ্গে কথা বলবো। তারপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর