• রোববার   ৩১ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৭ ১৪২৭

  • || ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

আমার রাজশাহী
১৭

রামুতে কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিলো ছাত্রলীগ

ডেস্ক নিউজ

প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২০  

‘মানুষের পাশে সবাই দাঁড়ায় না, দাঁড়াতেও পারেনা, এটাই ছাত্রলীগের বিশেষ বৈশিষ্ট্য, বিপদে সবার আগে সবার পাশে রাত দিন আছি আমরা।’ ছাত্রলীগের এক কর্মীর ফেসবুকে দেয়া আবেগের পোস্ট এটি। আবেগের কারণ সবাই যেখানে করোনা আতঙ্কে ঘরবন্দী সেখানে কাঠ ফাটা রোদে স্বেচ্ছায় বিনা পারিশ্রমিকে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। শ্রমিকবেশে কাজ করছেন মাঠে, কাস্তে হাতে কাটছেন ধান, মাথায় বয়ে নিয়ে তুলে দিচ্ছেন কৃষকের ঘরে ঘরে। 

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের ভয়ে ঘরবন্দি সব মানুষ। পেটের দায় পড়লেও শ্রমিকেরাও প্রাণের ভয়ে গৃহবন্দি। এতে শ্রমিক সংকটে পাকা ধান কাটতে না পারা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় কৃষক মোহাম্মদ সেলিম ও মোহাম্মদ হাকিম আলী। উপায়ন্তর না দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েন এই দুই কৃষক। কৃষক মোহাম্মদ সেলিম ও মোহাম্মদ হাকিম আলী’র শ্রমিক সংকটে দিশেহারার হওয়ার কথা জেনে লকডাউনের বাধ্যতামূলক গৃহবন্দি জীবনেও ঘরে বসে থাকেননি কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ও রশিদনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ-সম্পাদক মাসুক রানা মাহীন। করোনা ঝুঁকি এড়িয়ে আরো ১৬ জন নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে চলে গেছেন রশিদনগর ইউনিয়নের পানিরছড়া গ্যারেজ এলাকায় কৃষক মোহাম্মদ সেলিম ও মোহাম্মদ হাকিম আলীর পাকা ধানের মাঠে কাস্তে হাতে সবাই নেমে পড়েন ধান কাটতে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) ছাত্রলীগর ১৬ নেতাকর্মীকে নিয়ে কৃষক মোহাম্মদ সেলিম ও মোহাম্মদ হাকিম আলীর দেড় কানি (৬০ শতক) জমির পাকা কেটে দিলেন মাসুক রানা মাহিন।

এই প্রসঙ্গে কৃষক মোহাম্মদ হাকিম আলী বলেন, চৈত্রের ধান পাকার এই সময়ে আমি ও আমার ভাই এর দেড়কানি জমির ধান পেকে গেছে। কিন্তু করোনার ভাইরাসের কারণে শ্রমিক পাওয়া যায়নি। কয়েকদিন বহুভাবে চেষ্টা করেও কোনো শ্রমিক যোগাড় করতে পারিনি। কিছু শ্রমিক অতিরিক্ত পারিশ্রমিকে পাওয়া গেলেও নানা কারণে শেষ পর্যন্ত তারা ধান কাটতে আসেনি। এদিকে ধান পেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম। এতে আমি ও আমার ভাই দিশেহারা হয়ে পড়ি। আজ (সোমবার) দেখলাম একদল যুবক এসে আমার মাঠের পাকা ধান কাটছে। তারা ধান কাটতে নামার পরই আমি খবরটি পাই। পরে তাদের সাথে আমি ও আমার ভাই সেলিম যোগ দিই। তারা দেড় কানি জমির ধান কেটে দিয়ে পরে বাড়িতেও পৌঁছে দেন। এতে আমরা অনেক খুশি হয়েছি।

এ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগ নেতা মাসুক রানা মাহীন বলেন, দেশের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সব সময় সাধারণ মানুষের স্বার্থের জন্যই রাজনীতি করে এসেছে। দেশ রক্ষার আন্দোলন ছাড়াও ব্যক্তি পর্যায়েও সব সময় সমস্যাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বর্তমানেও আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সব সময় এমন নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে শ্রমিক সংকটে পাকা ধান কাটতে না পারার খবর পেয়ে আমি রশিদনগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের ১৬ জন নেতাকর্মী গিয়ে কৃষক সেলিম ও হাকিম আলীর পাক ধান কেটে বাড়ি দিয়েছি। এই কাজটি করতে পেরে আমরা অনেক গর্বিত।

এদিকে কৃষকের পাকা ধান কেটে দেয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে ব্যাপক প্রসংশিত হয় ছাত্রলীগের এসব নেতাকর্মীরা। এই দৃশ্যটি ফেসবুকে ইতোমধ্যে বেশ ভাইরাল হয়েছে। নানাজন নানাভাবে তাদেরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর