শনিবার   ০৪ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২১ ১৪২৬   ১০ শা'বান ১৪৪১

আমার রাজশাহী
২৪

সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে সমন্বয় ছাড়া চারঘাট পৌরসভার ড্রেন নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

বানেশ্বর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত অঞ্চলিক মহাসড়ক প্রসস্তকরণ কাজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে। গত (১১ফেব্রুয়ারি) মঙ্গলবার একনেক সভায় এই প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। রাজশাহীর বানেশ্বর থেকে সারদা, চারঘাট, বাঘা ও লালপুর হয়ে ঈশ্বরদী (জেড-৬০০৬) পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ করা হবে। জেলা মহাসড়ককে আঞ্চলিক মহাসড়কের মানে উন্নীতকরণে ৫৫৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার প্রকল্পটি পাস করা হয়েছে।

এদিকে প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা রাজশাহীর চারঘাট পৌরসভা।পৌরবাসীর সার্বিক সুযোগ সুবিধা এবং অবকাঠমোর উন্নয়নে প্রায় ১৫২ কোটি টাকার কাজের প্রস্তবনা আছে।ইউজিআইআইপি-৩ এর প্রায় ৩৪ কোটি টাকার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।যদিও এ কাজ সম্পূর্ণ করার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু একনেকের সভায় রাস্তা প্রশস্তকরণের প্রকল্পটি পাস হবার পরেও (চারঘাট-বাঘা) সড়কের পাশ দিয়ে নতুন করে ড্রেন ও ফুটপাত নির্মান কাজ করছে চারঘাট পৌরসভা। এতে কোটি টাকা ব্যায়ে নবনির্মিত এসব ড্রেন ও ফুটপাতের ভবিষৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার সরজমিন পৌরসভার সরদহ বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পূর্বের চেয়েও দ্বিগুণ গতিতে (চারঘাট-বাঘা) সড়কের পাশে তৈরি করা হচ্ছে ড্রেন। ওই ড্রেনের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমির উপর বহুতল ভবনসহ শতাধিক স্থাপনা রয়েছে। সেকল অবৈধ স্থাপনা বহাল রেখেই আঁকা-বাঁকা করে তৈরি করা হচ্ছে ড্রেন। অভিযোগ উঠেছে নির্মান কাজ তদারককারী চারঘাট পৌরসভার কর্মকর্তাদের যোগশাজসে অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা রক্ষা করতে আঁকা-বাঁকা করে ড্রেন নির্মান করা হচ্ছে।

জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় স্থাপনা বহাল রেখে ড্রেন নির্মান করায় কোন কোন স্থানে সড়কের প্রস্থ কমে যাচ্ছে। এতে বানেশ্বর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত  আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ শুরু হলে সেক্ষেত্রে এই ড্রেন ও ফুটপাত ভাঙ্গতে হবে। এতে সরকারের গচ্চা যাবে কোটি কোটি টাকা।

এ বিষয়ে চারঘাট পৌরসভার প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আমরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে সমন্বয় করেই কাজ করছি। তারা আমাদের সরকারী জমির একেবারে শেষ প্রান্ত দিয়ে ড্রেন ও ফুটপাত নির্মান করতে বলেছে।আমরা সেভাবেই করছি।তবে কোনো কোনো জায়গায় সরকারী জমি কম থাকার কারনে ড্রেন আঁকা বাঁকা হয়েছে।

তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সামসুজ্জোহা বলেন, চারঘাট পৌরসভা কতৃপক্ষ আমাদের সাথে সমন্বয় ছাড়া নিজেদের খেয়াল খুশিমত কাজ করছে। পৌর কতৃপক্ষকে একাধিকবার নোটিশ দিলেও তারা কর্ণপাত করেননি। বানেশ্বর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কটি প্রশস্ত হবে ৩৪ ফিট, দুই পাশে ফাঁকা রাখতে হবে আরও ৬ ফিট জায়গা। এতে বর্তমান রাস্তার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি প্রায় ৪০ ফিট জায়গা লাগবে। তাহলে চারঘাট পৌরসভার নবনির্মিত ফুটপাত ও ড্রেনের অনেকটা অংশই ভাঙা পড়বে। সেজন্য আমরা পৌর কতৃপক্ষকে সড়কের পাশে যেকোনো বড় স্থাপনা নির্মান করতে আপাতত নিষেধ করেছি।


এন/কে

আমার রাজশাহী
আমার রাজশাহী
এই বিভাগের আরো খবর